যুক্তরাষ্ট্র তথা গোটা বিশ্বে অসামান্য প্রতিভাবান এবং মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের সাফল্যকে আরও ব্যাপকতা এবং আগ্রহী তরুণদের উৎসাহিত করার অভিপ্রায়ে কর্মরত ‘বিজনেস এলিট’র ‘ফোর্টি আন্ডার ফোর্টি’ অ্যাওয়ার্ড’র জন্য মনোনীত হয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী মো. এ কাদের (শিশির)। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং মর্যাদাসম্পন্ন এ পুরস্কার ২৯ মে ফ্লোরিডার মায়ামির আলোঝলমল মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৪০ সেরা তরুণ ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তার মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে ৬ মার্চ আয়োজকরা এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন। বরাবরের মতো আয়োজকরা এবারও প্রত্যাশা করছেন যে, পুরস্কারপ্রাপ্তরা নিজ নিজ ব্যবসায়িক সফলতার ধারাবিবরণী অন্যদের মধ্যেও বিকাশের সুযোগ পাবেন, অনুপ্রেরণার উৎস হবে মানবিক কল্যাণে যুবসমাজকে আত্মনিয়োগ। ‘বিজনেস এলিট’র ঘোষণায় মো, এ কাদের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিউইয়র্কভিত্তিক অ্যল কাউন্টি হেল্্থকেয়ার’র সেবামূলক কার্যক্রমের পরিধি মিশিগান, ফিলাডেলফিয়া, নিউজার্সি এবং কানেকটিকাট স্টেটেও সম্প্রসারিত হয়েছে। হাসপাতাল এবং নার্সিং হোমেও অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় ইতোমধ্যেই অনন্য এক উদাহরণে পরিণত হয়েছে অ্যল কাউন্টি হেল্্থকেয়ার।
ওয়ালস্ট্রিটের নিজ কর্মগুণে সুপরিচিত উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী মো. এ কাদের হচ্ছেন অ্যল কাউন্টি হেল্্থকেয়ারের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও। আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি কাদের তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘পপুলার ক্যাপিটল ইনক’র মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খাদ্য- নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী (সয়াবিন, ভুট্টা, চিনি, এলএনজি, কটন ইত্যাদি) আমদানি-রপ্তানিতেও অসাধারণ অবদান রেখে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লগ্নসার গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মো. কাদেরের যাত্রা হচ্ছে একটি অসাধারণ উদাহরণ, যা ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং শিক্ষার পরিবর্তনকারী শক্তির প্রতি গভীর বিশ্বাসের প্রমাণ। তার গল্প একটি অবিরত উচ্চাকাক্সক্ষা এবং এক অদম্য সংকল্পের সাক্ষ্য যা সাদাসিধে শুরুর পরও সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছে। কাদেরের শৈশব ছিল এক গ্রাম্য সমাজে, যেখানে কঠিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং তার জন্মভূমির প্রতি গভীর আস্থার মাধ্যমে নিজের জীবন পাল্টে ফেলেন। আজ তিনি বিশ্বের এক গুণী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি, সফল উদ্যোক্তা এবং দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, যারা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির ওপর মনোনিবেশ করেছেন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি বৃদ্ধি করতে কাজ করছেন।
কাদেরের বাবা মুহাম্মদ রশিদ, ছিলেন একজন ছোট ব্যবসায়ী এবং মা শিরিন আক্তার, ছিলেন গৃহিণী। কাদেরের মাতৃপিতামহ আকাশ আলী ছিলেন এক প্রখ্যাত ব্যবসায়ী, কাদেরের শৈশবকালীন জীবনে তাঁর উপস্থিতি ছিল, তাঁর উদ্যোক্তা মনোভাব কাদেরের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কাদেরের শিক্ষাজীবনের এক নতুন দিগন্ত খুলে যায় যখন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে খ্যাতিমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। গ্রাম থেকে আসা একজন ছাত্রের জন্য এটি ছিল এক অসাধারণ অর্জন। হার্ভার্ডে তাঁর প্রবেশ কাদেরের কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এবং তাঁর জ্ঞানের প্রতি অটুট ইচ্ছাশক্তির একটি চিহ্ন ছিল। হার্ভার্ডে তাঁর শিক্ষাজীবন আরও বিস্তৃত হয়, যেখানে তিনি বিশ্বমানের শিক্ষক, গবেষক এবং সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এ অভিজ্ঞতা তাঁকে বিশ্বব্যাপী সুযোগের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে সহায়তা করে। সেখানে থাকাকালীন কাদের বিশ্বঅর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন, যা ভবিষ্যতে তাঁর উদ্যোক্তা উদ্যোগ এবং মানবিক প্রকল্পগুলোর ভিত তৈরি করে।