ঈদের ছুটিতে আনন্দে মেতেছে রাজধানীবাসী। প্রিয়জন ও পরিবারকে নিয়ে মানুষজন ভিড় করছেন নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের প্রিয় জায়গা মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় যেন তিলধারণের জায়গা নেই।
এ ছাড়া উত্তরা দিয়াবাড়ি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ক্রিসেন্ট লেক, বিমান জাদুঘর, রমনা পার্ক, সংসদ ভবন, হাতিরঝিলসহ অন্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। নগরীর সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্সগুলোতেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের ছুটিতে গণপরিবহনগুলোতে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও মেট্রোরেলে ছিল বিপরীত দৃশ্য। ঈদে মেট্রোরেলে ধাক্কাধাক্কি করে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে যান। শিশুরা তাদের বাব-মা ও অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদের নতুন জামা পড়ে চিড়িয়াখানায় আসে। ঈদের দ্বিতীয় দিন, ১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানায় ভিড় জমান। বেলা বাড়ার সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও পশুপাখিকে গুরুত্ব দিয়ে ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনা নেয় কর্তৃপক্ষ। ঈদের ছুটিতে গড়ে ১ লাখ টিকিট বিক্রির আশা করছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
মগবাজার থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ব্যবসায়ী দিদার হোসেন গতকাল চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন। দিদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বাচ্চারা চিড়িয়াখানায় এসে খুব খুশি। এর আগে ওরা কখনো এখানে আসেনি। তবে প্রচুর ভিড় হওয়ায় গরমে কিছুটা কষ্ট লাগছে।
আগারগাঁওয়ের বিমান জাদুঘরে গত দুই দিনই ছিল উপচেপড়া ভিড়। দর্শকদের লাইন দিয়ে জাদুঘরের টিকিট কাটতে দেখা যায়। রামপুরা থেকে আগত দর্শক সুমন হাসান বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু দলবেঁধে জাদুঘরে এসেছি। এখন পর্যন্ত এই জাদুঘরে আসা হয়নি। এখানকার পরিবেশ দেখে ভালোই লাগছে।’ অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে খোলামেলা পরিবেশে বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে ঢাকাবাসীর অনেকেই হাতিরঝিলে ভিড় করেন। সেখানে কেউ কেউ নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান করেন। কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে সেলফি তুলে সময় কাটান।
ঈদের ছুটিতে প্রচ ভিড় দেখা গেছে নগরীর সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্সগুলোতেও। সিনেমা হলগুলোতে ঈদের ছবির টিকিট সহজে পাওয়াও যাচ্ছিল না। সিনেপ্লেক্সের জন্য অনলাইনেও গত দুই দিন সহজে টিকিট পাওয়া যায়নি। মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যার শো ধরতে সিনেমা হলের ভিতরে ও বাইরে প্রচুর মানুষ। অনেকেই টিকিট কাউন্টারে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ছবির টিকিট না পেয়ে ফিরে যান। সংসদ ভবনের সামনে প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকাবাসী ঈদের ছুটি কাটাতে ভিড় করেন। একই অবস্থা ছিল ক্রিসেন্ট লেকেও। খোলা প্রাকৃতিক জায়গায় প্রিয় মানুষদের নিয়ে ছুটির বিকাল কাটান অনেকে। তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঢাকাবাসীর উল্লেখযোগ্য অংশ ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর রেস্টুরেন্টগুলো ভিড় জমান। মগবাজারের অ্যাট দি ট্যাবল ফুড কোর্টে ঈদের দিন-রাতে কোনো টেবিলই খালি পাওয়া যায়নি। মিরপুর থেকে আগত হাসানুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় বউ আর সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছিলাম আইসক্রিম খেতে, এখানে এসে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে জায়গা পেলাম।’