রাজধানী ঢাকার সব থেকে কাছের সমুদ্রবন্দর মোংলার ওপর পণ্য আমদানি-রপ্তানির চাপ বেড়েছে। ফেরি পারাপারের ঝক্কিঝামেলা নেই, তাছাড়া সড়ক পথে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় পণ্য আনা-নেওয়া ও সরাসরি রেল সংযোগ থাকায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশের দ্বিতীয় লাইফ লাইন মোংলা বন্দরকে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আরও ছয়টি জেটি নির্মাণ করছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর উন্নয়নে ৩ ও ৪ নম্বর জেটির কাজ ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ দুটি জেটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৮০০ কোটি টাকা। ১ ও ২ নম্বর জেটি নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ১১ ও ১২ নম্বর জেটি নির্মাণে প্রাথমিক কাজ শেষ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই ৬ জেটি নির্মাণ হলে মোংলা বন্দরে আরও ১ কোটি ৫০ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা তৈরি হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ও জেটি নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক কমডোর শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, তিন দশকের অধিক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছিল এ বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডেলিং। পদ্মা সেতু চালুর পর ফেরি পারাপারের ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই সড়ক পথে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় মোংলা বন্দর থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি রেল সংযোগ চালু হয়েছে। বন্দরটির ওপর চাপ বাড়ায় পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে সংযোজন হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। ভৌগোলিক দিক দিয়ে মোংলা বন্দর কৌশলগত ও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ পুরো দেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর মালামাল এ বন্দরের মাধ্যমে পরিবহন হয়। এসব কারণে বন্দরের চাপ বেড়ে যাওয়ায় জেটি সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়ে। ৮টি জেটি নির্মাণ হলে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের কাজে গতি পাবে। মোংলা বন্দর বড় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে। মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, এ বন্দরে জেটির সংখ্যা বাড়ানো হলে জাহাজ চলাচল এবং পণ্য হ্যান্ডেলিং বাড়বে। এতে বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়বে। ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর দিয়ে পণ্য সহজে খালাস করতে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে হলে মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান জানান, বন্দরের জেটিসহ চারটি প্রকল্পে কাজ চলমান রয়েছে। পশুর চ্যানেলের ইনার বারে (জেটি-সংলগ্ন) ড্রেজিং শেষ হলে বন্দরের জেটিতে ১০ মিটার পর্যন্ত ড্রাফটের (গভীরতা) জাহাজ হ্যান্ডলিং সুবিধা তৈরি হবে। বন্দর এখন আগের চেয়ে গতিশীল। কনটেইনারবাহী জাহাজের আগমন বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, কার্গো পরিবহনে ৯ দশমিক ৭২ ভাগ, কনটেইনার পরিবহনে ১৬ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া এ বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি ১৩ শতাংশ বেড়েছে।