ঈদের দিন সাতক্ষীরায় তীব্র জোয়ারে খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে ১১ গ্রাম। পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে, কারণ দুই দিনেও মেরামত হয়নি ভাঙা বাঁধ।
জোয়ারের পানিতে এরই মধ্যে ভেসে গেছে ছোটবড় অসংখ্য পুকুর ও চিংড়ি ঘের। পানিতে তলিয়ে আছে হাজার হাজার হেক্টর ধানের খেত। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মাছ। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এখনো বসতবাড়ি, উঠান ও বাড়ির আঙিনায় পানি থাকায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বসতবাড়িতে পানি থইথই করছে। জানা গেছে, ঈদের দিন ৩১ মার্চ সকাল ৯টার দিকে আশাশুনি উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামের আবদুর রহিম সরদারের ঘেরের বাসার কাছ থেকে প্রায় ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে তীব্র জোয়ারে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ হঠাৎ বিলীন হয়ে যায়। এরপর হুহু করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, চেঁটুয়া, কাকবসিয়াসহ ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ঈদের দিন দুপুরে এলাকাবাসী বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করলেও তীব্র জোয়ারের কারণে তা ব্যর্থ হয়। তবে গত দুই দিনে এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন জিও ব্যাগে মাটি ও বালু ভরে বাঁধটি পুনরায় রিং বাঁধ দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করে। কিন্তু সকাল ও বিকালে জোয়ারভাটার কারণে বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১-এর আশাশুনি জনের উপপ্রকৌশলী সৈয়দ রাশেদুল ইসলাম জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বাঁধটি নির্মাণের চেষ্টা করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল বেলা ১২টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় শত শত এলাকাবাসী হাতে হাত দিয়ে ছয় দফা দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়ার বিছট এলাকায় খোলপেটুয়া নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর পথের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নূরুন্নবীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব বিল্লাহ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক রমজান আলী, উপদেষ্টা শাহাবুদ্দিন হোসেন, মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, কবি ও সাহিত্যিক হেলাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দেলোয়ার হোসাইন প্রমুখ।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আনুলিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙনের স্থানে একটি বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলেও জোয়ারের পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ১ এপ্রিল সকালে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ভেঙে যাওয়া বাঁধ ও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংকট নিরসনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেন। বর্তমানে আশাশুনি ক্যাম্প থেকে দুটি পেট্রোল টিম এলাকাটিতে অবস্থান করে স্থানীয় লোকজন এবং প্রশাসনকে বাঁধ মেরামতের কাজে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে। এ ছাড়াও ৫৫ পদাতিক ডিভিশন হতে ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের একটি দল বাঁধ মেরামতের জন্য ওই স্থানে পাঠানো হয়েছে।