যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কের ঘোষনা পুনর্বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুল্ক ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা ছিল। এই আলোচনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে উচ্চ শুল্ক দিতে হয়, এ অভিযোগ তুলে তিনি নতুন শুল্ককে ‘পাল্টা শুল্ক’ বলেছেন। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়। নতুন শুল্ক আরোপের এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন ট্রাম্প। বক্তব্যের পর তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যের শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করবে বাংলাদেশ : যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের পর সরকারের পক্ষ থেকে তা পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর প্রযোজ্য শুল্কহার পর্যালোচনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত শুল্ক যৌক্তিকীকরণের জন্য সম্ভাব্য বিকল্পগুলো খুঁজে বের করবে, যা এ বিষয়ে কার্যকর সমাধানের জন্য জরুরি। পোস্টে আরও লিখেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করে আসছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।