প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। রাজধানীর ব্যস্ততম পয়েন্ট বিশেষ করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদ পরবর্তী চতুর্থ দিনে গতকাল রাজধানীর একমাত্র লঞ্চ টার্মিনাল সদরঘাটে একে একে ভিড়ছে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লঞ্চগুলো। কিছুটা বাড়তি স্বস্তির আশায় আগে ভাগেই ঢাকায় ফিরছেন তারা। সবারই চোখে মুখে উচ্ছ্বাস আর স্বস্তি, যার পেছনের অন্যতম কারণ ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা। একই দৃশ্য কমলাপুর রেল স্টেশনেও। বিভিন্ন গন্তব্য থেকে সময়মতো প্ল্যাটফর্মে ফিরছে ট্রেন। তবে অনেকের চোখে-মুখে দেখা গেছে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির ছাপ। বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীতে ফেরা যাত্রীদের অনেকেই বলেন, এবারের ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তির। যাত্রাপথে রেল, লঞ্চ, বাসের ব্যবস্থাপনায় তারা সন্তুষ্ট। এমন ঈদযাত্রা যেন আগামীতেও করতে পারেন এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। আরও দেখা গেছে, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে এখনো ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। কেউ কেউ ঢাকার বাইরে বাড়তি পাওয়া ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন।
বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ওমর ফারুক। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ উপভোগ করে আবার ফিরে এসেছেন নিজ কর্মস্থল ঢাকায়। ঈদ কেমন কেটেছে জানতে চাইলে ফারুক বলেন, ‘এক বছর পর বাড়িতে গেছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
আরও কয়েকদিন বাড়িতে থাকার ইচ্ছে ছিল জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, ‘আরও কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারলে আরও ভালো লাগত। কিন্তু চাকরির কারণে ঈদের একদিন পর ঢাকায় চলে আসতে হয়েছে। আজ (গতকাল) থেকে অফিস খোলা।’
রেলওয়ের তথ্য সেবা কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের চাপ থাকলেও ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। ঈদে ঢাকায় ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিটও বিক্রি হয়েছে। ফলে টিকিট নিয়ে ঝামেলা নেই। সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে ও পৌঁছাচ্ছে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া থাকায় স্টেশনে যাত্রীদের চাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।