দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে ১ কার্গো এলএনজি ও খাদ্য চাহিদা মেটাতে ভারতে থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ১০২৭ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৬ টাকা।
গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় প্রস্তাব দুটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮’ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে ১ কার্গো (৩০-৩১ জানুয়ারি-২০২৫, ৫ম) এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। পেট্রোবাংলার এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী চুক্তিবদ্ধ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হলে ৩টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। ৩টি প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেসার্স এক্সেলারেট এনার্জি এলপি এক কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.৬৯ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৪১৬ টাকা।
সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-৫ এর আওতায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৬ লাখ টন চাল আমদানির জন্য ‘অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’ অনুমোদেন দেয়। দেশের সরকারি খাদ্য মজুত বৃদ্ধি করে সরকারি বিতরণব্যবস্থা সচল রাখার স্বার্থে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে ৬টি দরপত্র জমা পড়ে।
৬টি প্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভারতের মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড এই চাল সরবরাহ করবে। প্রতি টন ৪৫৮.৮৪ মার্কিন ডলার হিসেবে ৫০ হাজার টন চাল আমদানিতে ব্যয় হবে ২ কোটি ২৯ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার, সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৭৫ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি চালের দাম ৫৫.০৬০৮ টাকা। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল এবং জিটুজি পদ্ধতিতে ১ লাখ টন আতপ চাল ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে বলে খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।