আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাম দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের প্রক্রিয়া জোরালোভাবে এগিয়ে চলছে। নিজেদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে সময় নিচ্ছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। ঈদের পর জোট গঠন করে আন্দোলন ও নির্বাচনে একসঙ্গে লড়বেন বাম নেতারা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও বাংলাদেশ জাসদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাম দল ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, পেশাজীবীদের জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া রয়েছে। জোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
তিনটি দলের দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন নেতা জানান, ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলো অগ্রসর হয়েছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের শাসক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপির দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে একটি গণতান্ত্রিক জোট গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ওই নেতারা জানান।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বামগণতান্ত্রিক জোট আছে। এর বাইরে শেখ হাসিনা সরকার পতনের আগেও একাধিক দলের সঙ্গে যুগপথ ধারায় আন্দোলন করেছিলাম। বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বামজোটের সঙ্গে আমরা বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ঈদের পরপরই কিছু করার চেষ্টা করছি। জোট গঠন হলে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাব।’ তিনি বলেন, ‘নানামুখী আলাপ আলোচনা থাকবে, রাজনীতির বাইরে যেমন দলিত ও আদিবাসী সংগঠন, পাহাড়ি সংগঠন, চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে একত্রিত করব। এ ছাড়া বুদ্ধিজীবী ও পেশাভিত্তিক সংগঠনকে জোটের পাশে রাখার চেষ্টা চলছে।’ জানা গেছে, বামজোটটি শক্তিশালী জোট করার প্রক্রিয়া চলছে। এই জোটে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোটের দলগুলো থাকছে। থাকবে বাংলাদেশ জাসদও। আলোচনা চলছে গণফোরামের সঙ্গেও। এই জোটে আরও আসতে পারে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম জোটের দলগুলোও। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, ঐক্য ন্যাপ, পাহাড়ি সংগঠন, দলিত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের যেসব সংগঠন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে নেতৃস্থানীয় যারা আছেন, তাদেরও এই জোটে টানার প্রক্রিয়া আছে। এরই মধ্যে কোনো কোনো দল ও জোটের সঙ্গে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অচিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু হবে বলে নেতারা জানান। বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত থাকা নাগরিক ঐক্য ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে বৃহত্তর জোট গঠন নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন বাম নেতারা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এবং বিদ্যমান পদ্ধতিতে ভোট হলে বাম জোটের ব্যানারে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ভোটের জন্য নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নেতারা আরও বলছেন, এই জোট গঠন হলে সেটি নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়া হবে। এর আগে কর্মসূচিভিত্তিক জোট হবে। বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি দিয়ে দলগুলো জোটবদ্ধভাবে মাঠে নামবে। এরপর আগামী নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাম, গণতান্ত্রিক দলগুলোর বৃহৎ একটি বলয় আমরা গড়ে তুলতে চাই। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক শ্রেণির রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতে বিকল্প একটি রাজনৈতিক জোট প্রয়োজন। এ নিয়ে আমাদের দু-একটি বৈঠক হয়েছে। পুঁজিবাদ, সুবিধাবাদ টিকিয়ে রেখে গণ আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন হবে না। এজন্যই আমরা বাম, গণতান্ত্রিক এবং যারা পুঁজিবাদ-সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে তাদের নিয়ে একটি জোট করতে চাই।’