পবিত্র ঈদুল ফিতরের পঞ্চম দিনেও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে রাজধানীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। চিড়িয়াখানা, রমনা পার্ক, মিরপুর-১-এর জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, শ্যামলী শিশু পার্ক, ফ্যান্টাসি কিংডম, বলধা গার্ডেনসহ রাজধানীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রে দর্শকদের প্রচুর ভিড় রয়েছে। ছোটবড় সব বয়সি মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো।
ফ্যান্টাসি কিংডমের ওয়াটার কিংডমে বেশি মানুষের ভিড় দেখা যায়। এই গরমে স্বস্তি পেতে পরিবার-পরিজন নিয়ে পানিতে মেতে ওঠেন অনেকে। রত্না আহমেদ বলেন, ‘একটু স্বস্তির জন্য এসেছি এখানে। বাচ্চারাও অনেক আনন্দ করছে। দর্শনার্থীর ভিড় এখানেও রয়েছে। আসলে আমাদেরও রাজধানীতে বিনোদন কেন্দ্রের খুব অভাব।’
ঢাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ছিল বেশ ভিড়। বিনোদন কেন্দ্র ছাড়াও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঐতিহাসিক স্থানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পুরান ঢাকার এতিহ্যবাহী লালবাগ কেল্লা ঘুরে দেখছেন অনেকেই। ঢাকার বাইরে থেকে এমনকি বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগমও ছিল। নানা বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল ঢাকার এ দর্শনীয় স্থানগুলো। সকালের শুরুতে লালবাগ কেল্লার প্রবেশমুখে ছিল মাঝারি লাইন। সকাল ১০টায় কেল্লার প্রবেশমুখ খুলতেই শিশু-কিশোর তরুণ-তরুণীসহ বৃদ্ধরা প্রবেশ করতে থাকেন। পুথিগত বিদ্যার বাইরে ইতিহাসের নিদর্শন স্বচক্ষে দেখানোর তাগিদ নিয়ে অনেক অভিভাবকই নিয়ে এসেছেন সন্তানদের। ঈদে ছুটি কাটাতে এসেছেন অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। জানালেন, ঈদের ছুটিতে স্বজন ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসায় মিলছে বাড়তি আনন্দ।
শুক্রবার চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায় জুমার নামাজের পর থেকেই সেখানে মানুষের প্রচুর সমাগম। বিকাল ৪টার পর দর্শনার্থীদের চাপ আরও বাড়ে। এদিন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন দর্শনার্থীরা। চিড়িয়াখানার প্রবেশগেট ও বের হওয়ার গেটে দর্শনার্থীর প্রচুর ভিড় চোখে পড়েছে। টিকিট কাউন্টারেও ছিল মানুষের জটলা। কিউরেটর বিল্লাল জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। বিকাল হতেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে চিড়িয়াখানা। তিলধারণের ঠাঁই নাই। অনেকে এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ এসেছেন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। অভিভাবকের সঙ্গে আসা শিশুদের কোলাহলে চিড়িয়াখানা এলাকার পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে। রফিকুল ইসলাম আসেন মগবাজার থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি পরিবারের সাবাইকে নিয়ে এসেছি। ঈদে বিনোদনের জন্য বিশেষ তেমন জায়গা নেই ঢাকা শহরে। ফলে চিড়িয়াখানায় ভিড় বেশি। সকালেই এসেছি। হাঁটতে হাঁটতে জান শেষ। তবে আনন্দ লেগেছে। ভিতরে ঢুকতেই বাঁ পাশে চোখে পড়ে হরিণের দল। আরও একটু সামনে বানরের খাঁচা। এখানে আগত শিশু-কিশোররা সবচেয়ে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে। চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে রেসাস বানরের বিরাট খাঁচায়।’
শিমুল রহমান এসেছেন মিরপুর ১২ থেকে। তিনি বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে আসাই তো ঈদের আনন্দ। এই আনন্দ আরও বেড়ে যায় চিড়িয়াখানায় এসে। এদিকে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা যায় শত শত হরিণ। রোদের খরতাপে পাখিদেরও বেড়েছে অস্বস্তি। পানির ঝাপটায় ঝিমাচ্ছে উটপাখির দল। গরমের কারণে দর্শনার্থীদেরও কষ্ট হয়েছে এদিন। তবে কোনো কিছুই থামিয়ে রাখা যায়নি ঈদের আনন্দে। সবচেয়ে বেশি আনন্দ ছিল বাঘের খাঁচার সামনে।
খাঁচার ভিতরে জলাধারে শুয়ে থাকতে দেখা যায় বাঘ যুগলকে। হুংকার করেনি। এমনকি সামনে পড়ে থাকা মাংসের চাকা ছুঁয়েও দেখছে না তারা। তবু এই খাঁচার সামনে মানুষের ভিড় লেগেই আছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য, বাঘ, ভালুক, হরিণ, সিংহ, বানর, জলহস্তী, কুমির, সাপ, ইম্পালা, গয়াল, লামা, ময়না, টিয়া, ক্যাঙারু, জিরাফ, জেব্রা, হাতি, ময়ূর, উটপাখি, ইমু পাখি, শঙ্খচিল, কুড়াবাজ, তিলাবাজ, গন্ডার, হায়েনাসহ ১৩৬ প্রজাতির ৩ হাজার ৩৪টি প্রাণী ও পাখি রয়েছে এখানে। এদিকে চিড়িয়াখানার বাইরের খাবারের দোকানগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। তবে এসব দোকানে খাবার পণ্যের দাম রাখা হচ্ছে অনেক বেশি। এ কারণে অনেক দর্শনার্থীই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এসব দোকানের দরদাম তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চিড়িয়াখানার পাশেই জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও (বোটানিক্যাল গার্ডেন) এদিন দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে।