দেশের প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। তিন বছর আগে বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও আলাপ-আলোচনায় শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসেই ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন স্টারলিংকে। আগামী বুধবার বিনিয়োগ সম্মেলনে স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এতে নড়েচড়ে বসেছেন বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা। প্রস্তুতি চলছে এ ব্যবসার নতুন কাঠামো নির্মাণের। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের প্রযুক্তি খাতে মূলত বিপ্লব ঘটাবে স্টারলিংক। সব ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে এর মাধ্যমে।
বর্তমানে বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবলনির্ভর ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হয়। এটি সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে তারের মাধ্যমে ব্যান্ডউইডথ এনে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা (আইএসপি) মানুষকে ইন্টারনেট সেবা দেয়। স্টারলিংক হচ্ছে আমেরিকান মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্সের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান। এটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ইন্টারনেট সেবা দেয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে গ্রাউন্ড আর্থ স্টেশন স্থাপনে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম জায়ান্ট স্টারলিংকের অংশীদার হয়ে কাজ করছে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ভূমি বরাদ্দ, নির্মাণ সহায়তা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো কার্যক্রম পরিচালনায় এসব সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে। স্টারলিংক টিম এই কাজের জন্য কিছু নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি এবং কিছুক্ষেত্রে হাইটেক পার্কের জমি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে স্টারলিংক। তিনি বলেন, স্টারলিংক বাংলাদেশের শহরে কিংবা প্রান্তিক অঞ্চলে, উত্তর অঞ্চল কিংবা উপকূলে লোডশেডিং কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝামেলামুক্ত রিলায়েবল এবং হাইস্পিড ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা দেবে। এটি নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং উচ্চমান কোয়ালিটি সার্ভিসের নিশ্চয়তা দেবে। যেহেতু বাংলাদেশে টেলিকম গ্রেড ফাইবার নেটওয়ার্কের
বিস্তৃতি সীমিত এবং প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে এখনো লোডশেডিংয়ের সমস্যা রয়েছে তাই স্টারলিংক আমাদের উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, এনজিও এবং এসএমই ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ও ডিজিটাল ইকোনমিক ইনিশিয়েটিভগুলোকে বেগবান করবে।
বাংলাদেশে স্টারলিংকের কার্যক্রমকে কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নে প্রযুক্তি বিশ্লেষক সুমন আহমেদ সাবির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, স্টারলিংকে যদি আমরা এক্সিজিসটিং ইন্টারনেটের বিকল্প ভাবী, তাহলে ভুল করব। স্টারলিংক হচ্ছে ইন্টারনেট জগতে আমাদের জন্য ভালো সংযোজন। কিছু জায়গায় ইন্টারনেট সার্ভিস দিতে পারি না। সেসব জায়গায় স্টারলিংকের মাধ্যমে সহজে ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব। এর ফলে স্টারলিংক আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের বিরাট সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
একই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবার বাজারে একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন তারা স্টারলিংকের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। কারণ, এখন তারা (ফ্রিল্যান্সাররা) যে ব্রডব্যান্ড কানেকশন ব্যবহার করেন অনেক ক্ষেত্রেই সেটি দিয়ে ভালো কাজ হচ্ছে না।