ভারত দক্ষিণ এশিয়ার ইসরায়েল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দেশটির লোকসভায় বিতর্কিত ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাসের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। গতকাল এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, ‘ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করে একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার চরম বিতর্কিত ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাস করে ভারতীয় মুসলমানদের ওয়াক্ফ করা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে দখলের পথ সুগম করেছে।’ আমরা এমন অবিচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। হেফাজত নেতারা বলেন, এর আগে মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান তিন তালাক নিষিদ্ধ এবং অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ ঠেকাতে ধর্মান্তরবিরোধী আইন করা হয়েছে। ভারত থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্রস্বরূপ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করা হয়। এভাবে রাষ্ট্রীয় ও আইনি পন্থায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের অধিকার হরণ করে তাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো ধর্মযুদ্ধে নেমেছে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার।
তারা আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে চরম ব্যর্থ ভারত। বিভিন্ন অজুহাতে রাষ্ট্রীয় মদতে বুলডোজার দিয়ে মসজিদ ভাঙার ঘটনা এখন দেশটিতে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাটে মুসলিমদের ধরে ধরে প্রায়ই হেনস্তা করা হয়। ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য এবং গরুর গোশত রাখার অভিযোগে মুসলিমদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার ইসরায়েল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভারত। এ ছাড়া, বাংলাদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধেও ঘৃণ্য অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির কয়েকটি মিডিয়া ও শাসকগোষ্ঠী।
নেতারা আরও বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারকে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানোর জোর আহ্বান জানাচ্ছি। ভারতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা বীরের জাতি। বাংলাদেশে কাল্পনিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভারতীয় প্রোপাগান্ডার বিপরীতে ভারতের সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অনেক বেশি শক্তিশালী, যা কূটনৈতিকভাবে আমাদের রাষ্ট্রকে অনেক এগিয়ে রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।