গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় মানিকগঞ্জের কৃষকরা এবার বেশি জমিতে পিঁয়াজের আবাদ করেছেন। ভাল দামের আসায় অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার ও বীজ ক্রয় করে তারা পিঁয়াজের আবাদ করেছেন। কিন্তু বাজারে পিঁয়াজের দাম ও চাহিদা না থাকায় হতাশায় ভুগছেন পিঁয়াজ চাষিরা।
হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার পিঁয়াজের সুনাম ও চাহিদা দেশব্যাপি। এখানকার পিঁয়াজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। বাজারে ভাল দাম ও চাহিদা না থাকার কারনে বিত্তশালী কৃষকরা পিঁয়াজ মজুদ করতে বাধ্য হচ্ছে। অপরদিকে সাধারণ কৃষকরা কমদামে পিঁয়াজ বিক্রী করে দিচ্ছেন। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মহাজনরা পিঁয়াজ কিনে মজুদ করছে।
গত বছর জেলায় পিঁয়াজ আবাদ হয়েছিল সাত হাজার পয়ত্রিশ হেক্টর জমিতে। এবার অনেক বেশী জমিতে পিঁয়াজ আবাদ হয়েছে। অনেকেই বাড়ির পালানে ছোট ছোট জমিতেও পিঁয়াজ আবাদ করায় সঠিক তথ্য জানা যাচ্ছে না।
শিবালয় উপজেলার রহিম মোল্লাহ বলেন, আমাদের কিছু জমি বাদে সব জমিই পিঁয়াজ চাষের উপযোগী। এবার সাত বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছি। আমার আর কোন জমি নেই। বাজার ভাল না হলে অনেক লোকসান হবে। চড়া দামে বীজ,সার ও শ্রমিক নিয়ে আগ মৌসুমেও পিঁয়াজ তুলে কোন লাভ হয়নি। বরং ক্ষতিই হচ্ছে। ব্যবস্থা না নিলে গতবছরের মতো এবারো বড় মহাজনরা সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রনে নিবে বলে তিনি জানান। এতে কৃষকের কোন লাভ হবে ভোক্তা পর্যায় দাম বাড়বে।
হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা উজান পাড়ার সকেল উদ্দিন মাদবর (৭০) বলেন, গতবছর আট বিঘা জমিতে পিঁয়াজ রোপন করেছিলাম। ভাল দাম পাওয়ায় এবার সতের বিঘা জমিতে পিঁয়াজ রোপন করে বড় ধরনের ক্ষতি মুখে পড়েছি। গতবছর একমন পিঁয়াজ বিক্রী করেছি চারহাজার টাকা, এবার বিক্রী হচ্ছে এক হাজার দুইশত টাকা মাত্র। অথচ এক মণ পিঁয়াজ উৎপাদন খরচ হয় দুই হাজার টাকা।
পিঁয়াজ থেকে গাছ কাটায় কৃষাণী ও নারী শ্রমিকরা কাজ করেন। নারী শ্রমিকরা বলেন, সংসারের কাজ করে অবসর সময় পাশের বাড়িতে পিঁয়াজ কাটার কাজ করি। প্রতি মণ পিঁয়াজ কাটায় চল্লিশ টাকা করে পাই। এতে দিনে চারশত টাকা বাড়তি আয় হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্ম রবিআ নুর আহম্মেদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পিঁয়াজের ফলন ভাল হয়েছে। গত বছর অতিরিক্ত দাম পাওয়ায় পিঁয়াজ আবাদ বেশি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে পিঁয়াজ বেশি থাকায় দাম পড়ে যাচ্ছে। যে সব জেলায় পিঁয়াজ উৎপাদন বেশী সেখানকার জন্য সরকার ভুর্তুকি দিয়ে পিঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, এক সাথে একই ধরনের ফসল উৎপাদন না করে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করা উচিৎ। তাহলে লোকসানে পড়তে হবে না।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ