সংবিধানে ‘নির্বাচন কমিশন’ ও ‘সরকারি কর্ম কমিশন’ নামে দুটি সাংবিধানিক কমিশন আছে। এর সঙ্গে ‘মানবাধিকার কমিশন’, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ ও ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ নামে আরও নতুন তিনটি কমিশন যুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন (সিআরসি)।
সাংবিধানিক কমিশন দুটি থেকে বাড়িয়ে এখন পাঁচটি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন জানিয়েছে, পাঁচটি সাংবিধানিক কমিশন সংবিধানে পৃথকভাগে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, শিরোনাম হবে ‘সাংবিধানিক কমিশনসমূহ’। প্রতিটি কমিশনের জন্য পৃথক পৃথক পরিচ্ছদ থাকবে, যেখানে কমিশন প্রতিষ্ঠা, কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ, কার্যকাল এবং কমিশনের কার্যাবলি-সম্পর্কিত মূল বিধানগুলো উল্লেখ করা হবে। প্রতিটি কমিশনের অতিরিক্ত বিবরণ পৃথক আইনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। সব কমিশনের গঠন, নিয়োগ, কার্যকাল ও অপসারণ প্রক্রিয়া একই রকম হবে।
৮ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ ছয় সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরও যেসব কমিশন আছে, যেমন তথ্য কমিশন, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, আইন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন- এগুলোকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি নয়।
প্রস্তাবিত নতুন তিনটি সাংবিধানিক কমিশনের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে সিআরসি জানিয়েছে, চার বছর মেয়াদি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গঠিত হবে একজন প্রধান মানবাধিকার কমিশনার এবং অনূর্ধ্ব চারজন মানবাধিকার কমিশনার নিয়ে। কমিশনারদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে। কমিশনের গঠনে সমাজে বিদ্যমান বহুত্বকে নিশ্চিত করার জন্য আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয় সরকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের গঠনেও প্রায় একই রকম সুপারিশ করা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনে বর্তমান আইনে বলা হয়েছে যে কমিশনের চেয়ারম্যান এবং একজন সদস্য পূর্ণকালীন হবেন এবং অন্য সদস্যরা সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। সিআরসি সুপারিশ করেছে যে মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পূর্ণকালীনভাবে নিয়োগকৃত হবে। জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতির কাছে মনোনয়ন পাঠালে রাষ্ট্রপতি মানবাধিকার কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক যে পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হতে পারেন, সেই ধরনের পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া কোনো মানবাধিকার কমিশনারকে অপসারিত করা যাবে না।
স্থানীয় সরকার কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারক, নিয়ন্ত্রণসহ আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলি পালন করবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়ে পরামর্শ হচ্ছে, দুর্নীতি-সম্পর্কিত অনুসন্ধান করা, তদন্ত পরিচালনা করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা এবং ওই অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা দায়েরসহ আইন দ্বারা নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী অন্য সব কার্যক্রম পরিচালনা করা।