ঝুট ঝামেলাবিহীন এক অন্যরকম ঈদ উদযাপন করছেন উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষ। পর্যটনে অপার সম্ভাবনার এই জেলায় ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসেছে হাজার হাজার পর্যটক। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
হিমালয় কন্যা খ্যাত এই জেলার গ্রামীণ কিংবা মহাসড়কে এবার আনন্দের উন্মত্ততা নেই। চলাচলে নেই যানজট। স্বাভাবিক উদ্দীপনায় মিশে এবার ঈদ উদযাপন করেছে তরুণ-যুবকেরা।
গত কয়েক বছরে ঈদের দিন অথবা তার পরের ছুটির দিনগুলোতে জেলার কোন না কোন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের খবর পাওয়া যেতো। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত ঈদ সংশ্লিষ্ট কোন দু:সংবাদ পাওয়া যায়নি। নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দে ঈদ উদযাপন করছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এই জেলায় বেড়াতে আসেন। এবারও ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেড়াতে আসছেন পর্যটকরা।
পর্যটকরা বলছেন সমতলের চা বাগান, সীমান্তের গ্রাম, বয়ে যাওয়া হাঁটু পানির নদী, প্রাকৃতিক পরিবেশসহ পর্যটন স্পটগুলোর আকর্ষণীয় কেন্দ্রগুলোতে মুগ্ধ তারা। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, চাওয়াই নদীর পাড়, মিড়গড় ইকো পার্ক, হিমালয় পার্কসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্পটগুলোতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যটকরা আনন্দ করছেন এসব স্পটে।
নীলফামারীর জলঢাকা থেকে বশিরুল আলম পরিবার নিয়ে এসেছেন তেঁতুলিয়া বেড়াতে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার আর আত্মীয়-স্বজন নিয়ে একসাথে বেড়াতে এসেছেন। এবারের ঈদ একটু অন্যরকম। সড়কে চলাফেরায় কোন ঝুট ঝামেলা পোহাতে হয়নি। পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখেছি। খুব ভালো কাটছে ঈদের ছুটির সময়গুলো।
পর্যটকদের নিরাপত্তা আর নির্বিঘ্নে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সড়কে দায়িত্ব পালন করছে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ। ঈদে যাতে সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে আনন্দ উদযাপন করতে পারে এ জন্য তিন দফায় সভা করেছিলো জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, সর্বস্তরের মানুষ এবার অন্যরকম ঈদ উদযাপন করছেন। তাদের এই উদযাপন যাতে আকর্ষণীয় এবং আনন্দময় হয় এজন্য সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা পর্যটন স্পটগুলোতে আগমন সহজ করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ