সৌদি আরবের আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায় চলছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বাজিমাত। পবিত্র নগরী মক্কা, মদিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রদেশের আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁর ৮০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশিরা। শুধু তাই নয়, এসব হোটেল এবং রেস্তোরাঁর কর্মরতদের সিংহভাগ শ্রমিক-কর্মচারীরাও বাংলাদেশি।
সৌদি বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা এবং চট্টগ্রাম সমিতি দাম্মামের সাধারণ সম্পাদক ডা. আহমেদ শামীম বলেন, ‘সৌদি আরবের আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁর ব্যবসা পুরোটাই বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণে। এ দুই সেক্টর ছাড়া অন্যান্য সেক্টরেও দাপট রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের।’
মক্কা নগরীর আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মক্কা এবং মদিনার আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এ দুই সেক্টরের ৮০ শতাংশই ব্যবসা বাংলাদেশিদের দখলে। এসব হোটেল এবং রেস্তোরাঁর শ্রমিক-কর্মরতদের সবাই বাঙালি।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা, তায়েফ, জেদ্দাসহ সৌদি আরবের নানান প্রদেশের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ। এসব রেস্তোরাঁয় কর্মরতদের সিংহভাগই হচ্ছেন আবার বাংলাদেশি। বাঙালি ছাড়াও কর্মরত রয়েছেন সৌদিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। ওমরাহ ও হজ পালনে আসা মুসল্লিদের সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এসব রেস্তোরাঁ। যাতে পাওয়া যায় বাংলাদেশি নানান পদের সুস্বাদু খাবার। রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া এবং অ্যারাবিক নানান পদের খাবার। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ওমরা পালনকারীদের পাশাপাশি পর্যটকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশি খাবারের সুনাম। রেস্তোরাঁর পাশাপাশি মক্কা এবং মদিনার সাধারণ ও দুই-তিন তারকা মানের আবাসিক হোটেল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বাঙালি উদ্যোক্তারা। সৌদি আরবে থাকা এসব হোটেলে কাজের সুযোগ পেয়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। অথচ একটা সময় চাইলেও সৌদি নাগরিকের বাইরে লাইসেন্স করে ব্যবসার সুযোগ পেত না বিদেশিরা। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের নামে করতে হতো ব্যবসা। সৌদি নাগরিকের নামে লাইসেন্স করে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক বাঙালি। কিন্তু ২০২১ সালে সৌদি সরকার ভিনদেশি নাগরিকদের বিনিয়োগের পথ খুলে দেয়। প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় বিতর্কিত লাইসেন্স নীতি। এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন সেক্টরে বাড়তে থাকে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। যে তালিকায় জায়গা করে নেয় বাংলাদেশিরাও। এরপর থেকেই সৌদি আরবে আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায় আধিপত্য বাড়তে থাকে বাংলাদেশিদের। মদিনার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আলী আজগর বলেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভালো অবস্থান থাকলেও ব্যবসার অবস্থা আগের মতো নেই। সৌদি সরকারের মাত্রাতিরিক্ত কর আদায়, কথায় কথায় জরিমানাসহ নানান কারণে ব্যবসায়ীদের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ। এমন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা কোনোভাবে টিকে আছেন।