তিন দশক ধরে জলাবদ্ধতায় ধুঁকছে চট্টগ্রাম নগর। তিন সংস্থার চার প্রকল্পের মাধ্যমে চলছে ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকার কাজ। তবু প্রতি বছর বর্ষায় দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে চার উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। আজ খাল-নালা পরিদর্শন, কাল দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চার উপদেষ্টার উপস্থিতিতে হবে বৈঠক। এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার আলো দেখছে নগরবাসী।
জানা যায়, ৫ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিন উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সভা হয়। সভায় ১৮ জানুয়ারি (আজ) নগরের খাল-নালা পরিদর্শন করে বর্তমান অবস্থা অবগত হওয়া এবং সরকারের চার উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে ১৯ জানুয়ারি (কাল) বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামীকালের বৈঠকে শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উপস্থিত থাকার কথা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ১৪ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসনে চার উপদেষ্টাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এরই প্রেক্ষিতে উপদেষ্টারা বৈঠকে বসবেন। তিনি বলেন, সিডিএ মেগা প্রকল্পের অধীন ৩৬টি খালের উন্নয়ন করছে। এবার প্রকল্পটির আকার বাড়িয়ে বাকি ২১টি খালও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারণ ৫৭টি খাল সংস্কার ছাড়া জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয়। সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস বলেন, ‘বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। আশা করি এবার সুফল মিলবে।’ জানা যায়, বর্তমানে তিন সংস্থার চার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নগরের খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়নে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। সিডিএ ৩ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তীরবরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে। প্রকল্পটি তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে গত জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন একটি খাল খনন প্রকল্পের জন্য ৩৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। চার দফা সংশোধনের পর বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরে নতুন খাল খননের গুরুত্ব দিয়ে ১৯৯৫ সালের মহাপরিকল্পনায়ও সুপারিশ করা হয়েছিল। প্রকল্পের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘চট্টগ্রাম মহানগরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন উন্নয়ন’ শীর্ষক ১ হাজার ৬২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ এখনো চলমান। অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ।