ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত যাত্রীবাহী বাসে টার্গেট ব্যক্তির শরীরে কৃত্রিম বমি করে তার কাছ থেকে কৌশলে ছিনতাই করে একটি চক্র। প্রতিবাদ করলে ওই যাত্রীকেই ছিনতাইকারী বানিয়ে মারধর করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন জনবহুল স্থানে এবং গণপরিবহনে ঘটছে এমন ঘটনা। এসব বিষয়ে সবাই সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার কেউ শিকার হলে দ্রুত থানা পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আসিফ উদ্দিন রাইদা পরিবহনের নিয়মিত যাত্রী। ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা তুলে তিনি যাচ্ছিলেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এমন সময় পেছন থেকে তার ওপর বমি করা হয়। তিনি বলেন, আমি রাইদা বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পরই আমার ওপর বমি করা হয়। কী থেকে কী হলো বুঝে উঠার আগেই জটলা পেকে যায়। কেউ কেউ এগিয়ে আসে সাহায্যের জন্য। এমন সময় পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে করতেই টের পাই আমার পকেটে ১ লাখ টাকার বান্ডিলটা আর নেই। আমার ধারণা, আমি যখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলি তখন থেকেই আমাকে টার্গেট করে এই চক্রটি। নগরীতে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। শাওন বড়ুয়া ব্র্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনিও বমি পার্টির খপ্পরে পড়ে খুইয়েছেন সেমিস্টার ফি। তিনি বলেন, সেমিস্টারের টাকা বাবা পাঠিয়েছেন দেশের বাইরে থেকে। আমি সেই টাকা তুলে বাসে করে যাচ্ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমন সময় বমি পার্টির সদস্যরা বাসে উঠেন। প্রথমে কৃত্রিম জটলা তৈরি করেন। এরপর তাদের এক সদস্য কৃত্রিম বমি করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ভ। এ অবস্থায় আমার কাঁধের ব্যাগ নিয়ে দৌড় দেন একজন। আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ব্যাগে নিয়ে ফিরছিলাম।
১২ নভেম্বর ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে বমি পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খুইয়েছেন আজহার মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ঘটনার ২২ দিন পর বমি পার্টি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। অনুসন্ধানে জানা যায়, চকলেট ও পানির মিশ্রণে এই কৃত্রিম বমি করা হয়। কৃত্রিম বমি সবাই করতে পারে না। এ বমি করার প্রশিক্ষণ বমি পার্টির সদস্যরা বিশেষভাবে নিয়ে থাকেন। প্রতিটি দলে একজন গুরু থাকেন, যারা এই বিশেষ কৌশল প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তাকে গুরু নামে ডাকা হয়। বমি করার পর বাসের মধ্যে এক ধরনের হই-হুল্লোড় তৈরি হয়। সেই সুযোগে এই দলের সদস্যরা যাত্রীর মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। এই চক্রে সাধারণত এক নারীসহ ৪-৫ জন পুরুষ থাকেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে আগেও ব্যবস্থা নিয়েছি। কোথাও এমন কিছু সংঘটিত হয়েছে জানার পরই কেস ফাইল করে আমরা মাঠে নেমে পড়ি। পুলিশ জনগণের বন্ধু। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেই প্রতারণা করুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি এমন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি ঘিরে বমি পার্টি ও ট্রেনিং দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন তথ্য হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।