অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর ইরাকের পার্লামেন্ট নারীর অধিকার রক্ষায় কিছু পরিবর্তন এনেছে। একই দিন সংসদে সাধারণ ক্ষমা আইনও পাস করা হয়েছে।
১৯৫৯ সালের পারিবারিক আইন সংশোধনের মাধ্যমে এখন থেকে পরিবার-সংক্রান্ত বিষয় যেমন বিবাহ, উত্তরাধিকার, তালাক এবং সন্তানদের অভিভাবকত্বে নাগরিক বা ধর্মীয় আইন অনুসরণ করার বিকল্প রাখা হয়েছে।
এর আগে, এই আইনের একটি খসড়া নারী অধিকারকর্মীদের ক্ষোভ উসকে দিয়েছিল। কারণ, সেখানে মুসলিম মেয়েদের জন্য বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স মাত্র ৯ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। তবে সংশোধিত আইনে আগের নিয়ম পুনর্বহাল করা হয়েছে। এখন বিবাহের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর রাখা হয়েছে, তবে অভিভাবক ও বিচারকের সম্মতিতে এটি ১৫ বছর পর্যন্ত করা যাবে।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আনুজ এএফপিকে বলেন, সংশোধিত আইনে শিয়া ও সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে, চার মাসের মধ্যে ধর্মীয় ও আইনি নিয়মাবলী তৈরি করতে হবে।
এছাড়াও, পার্লামেন্ট একটি সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করেছে যা আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছিল। এই আইনে যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের পুনর্বিচারের সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে এই আইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পুনর্বিচারের সুযোগ রাখা হয়নি। তদ্ব্যতীত, যারা সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছেন, তারা চুরি করা অর্থ ফেরত দিলে ক্ষমার সুযোগ পাবেন।
সংসদ সদস্য আনুজ ব্যাখ্যা করেন, যারা নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন অথবা গোপন তথ্যদাতার ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তারা নতুন করে বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
যদিও এই আইনগুলো পাস করতে শিয়া, সুন্নি এবং কুর্দি সম্প্রদায়ের ঐক্যমত্য হয়েছে, তবে পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংসদ সদস্য নূর নাফে দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত আইন এবং সাধারণ ক্ষমা আইন সংসদে ভোট ছাড়াই পাস করা হয়েছে।
নাফে আরও জানান, এমপিরা হাত তোলেননি এবং এই প্রক্রিয়াটিকে অনেকেই প্রহসন বলে মনে করছেন। কিছু আইনপ্রণেতা এই অনিয়মের কারণে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এই নতুন আইনগুলো ইরাকের রাজনৈতিক সমঝোতার একটি প্রতীক হলেও পাসের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিতর্ক সরকারের স্বচ্ছতার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল