নারীদের প্রজনন তন্ত্রের ক্যান্সারের মধ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার অন্যতম। ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে মৃত্যু হার অনেক বেশি (২৫-৫০%)। ডিম্বাশয়ের আবরণ, ডিম্বনালী ও পেরিটেনিয়ামের ক্যান্সারকে একসঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার বলে কারণ তাদের উপসর্গ, রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ও চিকিৎসা পদ্ধতি একই রকম। এই ক্যান্সার সাধারণত শেষ পর্যায়ে এসে নির্ণয় হয় কারণ রোগীদের উপসর্গগুলো নির্দিষ্ট থাকে না এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় শেষ পর্যায়ে যখন তেমন কিছু করার থাকে না।
উপসর্গসমূহ : এই ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না।
১. ক্ষুধামন্দা, ২. অল্প খেলেই পেট ভরা মনে হয়।, ৩. পেট বড় হয়ে যাওয়া, ৪. পেটে ব্যথা অনুভব করা, ৫. পেটে চাকা অনুভব করা
৬. ওজন কমে যাওয়া
৭. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। এ উপসর্গগুলো যদি মাসের ১২ দিনের বেশি হয় এবং এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
ঝুঁকিতে কারা : ১. পারিবারিক ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, যেমন- ডিম্বাশয়, কোলন, পাকস্থলী, স্তন ক্যান্সার। ২. যারা কখনো গর্ভধারণ করেনি। ৩. যাদের ওজন বেশি। ৪. যাদের মাসিক শুরু হয় অল্প বয়সে আর মেনোপজ হয় দেরিতে। ৫. মেনোপজের পর হরমোন থেরাপি নিলে। ৬. অধিক বয়স্ক নারী ও অল্প বয়সের মেয়ে।
রোগ শনাক্তকরণ : ১. মাত্র ২০ শতাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা সম্ভব। ২. শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি পেটের আল্টাসনোগ্রাম। টিউমার মার্কার, আগে পেটের সিটিস্ক্যান ইত্যাদি করে রোগ নির্ণয় করা যায়।
চিকিৎসা : ১. প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে সার্জারি করা সম্ভব। ২. সার্জারি ছাড়াও কেমোথেরাপি, টারগেটেট থেরাপিও দেওয়া হয়। ৩. এডভান্স পর্যায়ে আগে কেমোথেরাপি দিয়ে পরে সার্জারি করা হয়। পরিশেষে এটাই বলতে চাই যে, যেহেতু ডিম্বাশয়ে ক্যান্সারের উপসর্গ কম ও নির্দিষ্ট এবং মৃত্যু হার বেশি তাই একটু উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ও সুস্থ থাকুন। সবচেয়ে বড় কথা এসব রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম। তাই প্রাথমিক অবস্থা থেকেই চিকিৎসা নিলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
-ডা. পবিনা আফরোজ পারভীন, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।