শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারিদের দৌরাত্ম্যে প্রশাসন যেন ক্লান্ত। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আটক, জেল জরিমানা করলেও বন্ধ হচ্ছে না এই কার্যক্রম।
গত ১৭ আগষ্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রশাসন অন্তত ৯৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। এতে ৬০-৭০ জন গরীব লেবারকে অভিযুক্ত করা হলেও গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
জানা গেছে, প্রতি ট্রাক লাল বালু বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার টাকায়। প্রতিদিনই ট্রাকে ট্রাকে এসব অবৈধ লাল বালু বিক্রি হচ্ছে। টাকা দিয়ে নেতা ও প্রভাবশালী কতিপয় প্রশাসনের লোকজন ম্যানেজ করে বালু দস্যুরা এখন বেপরোয়া।
অভিযোগ রয়েছে কোথাও কোথাও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে আবার কোথাও শিথিল। তাছাড়া দুর্গম বনে সব সময় ব্যবস্থা নেওয়া অনেক কঠিন ও বালু দস্যুদের থামাতে সীমান্তের প্রশাসনকে ৮০ ভাগ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছে।।
বালু তোলার মেশিন, ট্রাকের ঘটঘট শব্দ, তেল মবিলের গন্ধ, শ্রমিকের কোলাহলে পাহাড় এখন মুখরিত। এসব কারণে পাহাড়ের জীব বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুক্ষিন বলে দাবি পরিবেশবাদিদের।
শ্রীবরর্দী, ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল এখন সরকারি সম্পদ লাল বালু লুটপাটের হটস্পট। এসব দুরন্ত দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেও প্রশাসন হুমকির সম্মুক্ষিন হচ্ছে। সাংবাদিক আক্রান্ত হচ্ছে, বিজিবিকেও ছাড়ছে না দুর্বৃত্তরা।
গত ২৩ জানুয়ারি রাতে একদল সাংবাদিক ওই দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর দুই দিন পর অবৈধ বালুর গাড়ি আটকের ঘটনায় তোলপাড় করা হয় ইউএনও অফিস। পরিস্থিতি সামাল দিতে যৌথবাহিনীকে আসতে হয়। আগষ্টের পরে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও বালু দস্যুদের মুখোমুখি অবস্থানে হরতাল, ১৪৪ ধারাসহ সব হয়েছে। পরে ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকতাকে বদলী করা হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের জন্য ভোগাই, চেল্লাখালি, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর চারটি বালু মহাল ইজারা দেয়া হয়। এর বাইরে অন্তত ৫০টি স্থানে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। প্রশাসন একদিকে অভিযান করে অন্যদিকে ফের বালু লুটপাট শুরু করা হয় জরিমানার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে।বালু দস্যুদের বিষয়ে আইন খুব দুর্বল থাকায় আইনের ফাঁক দিয়ে অপরাধিরা দ্রুত বের হয়ে যায়।
নালিতাবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, প্রশাসনিক কাজের ৮০ ভাগ সময় দিতে হচ্ছে বালুর পিছনে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আশরাফুল আলম রাসেল বলেছেন, ২৪ ঘণ্টা ওদিকে কান রাখতে হচ্ছে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান হয় কিন্ত অপরাধীদের অনেক শাখা প্রশাখা।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার ববি বলেছেন, যারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সহযোগিতা করার কথা, তারাই জড়িত।
পরিবশেবাদী মুগনিউর রহমান মনি বলেন, বালু দস্যুদের বেপরোয়া কাণ্ডে বনের জীব বৈচিত্র্য শেষ হচ্ছে। শক্ত ব্যবস্থা এখনই না নিলে বন রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরদার মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি বেশ উদ্বেগের। তবে আমরা ক্লান্ত নই। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আরও কঠোর পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। অচিরেই ফল পাওয়া যাবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল