কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযানে আব্দুস সুফি (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা ও ১ জনকে আটক করা হয়।
নিহত ব্যক্তি পাচারকারী বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। নিহতের পরিবারের অভিযোগ কোস্টগার্ডের মারধরে নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। শনিবার (১ ফ্রেব্রুয়ারি) সকালে শাহপরীর দ্বীপ সাগরে মাদক উদ্ধার অভিযানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ডাঙর পাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ সৈয়দের ছেলে আব্দুস সুফি (৪০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মো. সিয়াম উল হক।
তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে ট্রলার নিয়ে চোরাকারবারিদের একটি মাদকের চালান পাচারের খবরে কোস্টগার্ড অভিযানে যায়। মাদক নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়া নৌঘাট দিয়ে প্রবেশকালে কোস্ট গার্ডের টহল টিম ওই বোটটিকে থামার সংকেত দেয়। সংকেত অমান্য করে নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরিয়ে পালাতে শুরু করে পাচারকারীরা।
এ সময় কোস্ট গার্ড দুই পাচারকারীসহ ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আটকদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। জব্দকৃত ইয়াবা ও আটককৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে নিহতের ভাই আবদুল করিম বলেন, ‘আমার ভাই সাঁতরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করলে নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে পানি খেয়ে মারা যায়। এ বিষয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিব। আমার ভাই অপরাধী হলে তাকে আটক করবে, কিন্তু তাকে হত্যা করতে হবে কেন? আমাদের দাবি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন করা হোক।’
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রণয় রুদ্র বলেন, ‘দুপুর ২ টার দিকে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসে কোস্টগার্ডের লোকজন। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে তাঁর মৃত্যু হয়। তার শরীরে কোনো ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার শরীরে প্রচুর পানির অস্তিত্ব দেখা যায়।’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ