আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘প্রক্সি ভোটিং’ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তিনটি পদ্ধতির মধ্যে প্রক্সি ভোটিং নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে এবং এপ্রিলের শুরুতে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতি পাওয়া গেলে এবং প্রযুক্তিগতভাবে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে প্রক্সি ভোট চালু করা হবে।
ইসি সচিবালয়ের গঠিত কমিটি পোস্টাল ব্যালট, অনলাইন ভোটিং ও প্রক্সি ভোটিং- এই তিনটি পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। সোমবার (১০ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের এক সভায় প্রক্সি ভোট নিয়ে প্রেজেন্টেশন করা হয়, যেখানে পুরো কমিশন এ বিষয়ে একটি ওয়ার্কশপ করার অনুমোদন দিয়েছে।
কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, আগামী ৭-৮ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, এমআইএসটি, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটির বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করা হবে।
তিনি বলেন, মধ্য এপ্রিলের মধ্যে তিনটি পদ্ধতির মধ্যে একটি উপযুক্ত আর্কিটেকচার তৈরি করা গেলে, এরপর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হবে। রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট, টেস্টিং ও অডিটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আইনি কাঠামো সংশোধন করে প্রক্সি ভোটিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, জানান তিনি।
পোস্টাল ব্যালট কেন কার্যকর নয়?
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিকে অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পর ব্যালট পেপার ছাপানো হয় এবং ১০-১২ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ২৪-৪০ দিন সময় লাগে, যা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি আরও জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রবাসী ভোট দেননি, দেশে মাত্র ৪৩৩টি পোস্টাল ব্যালট কাস্ট হয়েছে, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্যও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা ছিল।
নির্বাচন কমিশনের কমিটি আগামী নির্বাচনের জন্য প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতির সুপারিশ করেছে। কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, "প্রবাসীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাইলে প্রক্সি ভোটিং চালু করতেই হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় শুধুমাত্র সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রক্সি ভোটিং ব্যবস্থা রয়েছে।
সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য প্রক্সি ভোটিং সিস্টেমের উন্নয়ন, আইনি কাঠামোর পরিবর্তন, পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন ও অডিটিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এটি চালু করা হবে। কমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার সম্মতি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে প্রক্সি ভোটিং চালু করা সম্ভব হবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ