মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে মর্ত্যে আগমন ঘটে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর। সনাতন ধর্ম মতে, বিদ্যা, বাণী ও সুরের দেবী সরস্বতী। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছে সরস্বতী পূজার।
কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, কেন্দ্রীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে আজ সকাল ১০টায় দেবীর পূজা সম্পন্ন হবে। পূজা শেষে দেবীর পায়ে অঞ্জলি দেবেন ভক্তরা। ধর্মীয় বিধান অনুসারে শুভ্র রাজহাঁসে চড়ে বিদ্যা ও সুরের দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আসেন। সকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের বাড়ি ও পূজামন্ডপে সরস্বতী পূজা হবে। পূজা শেষে শিশুদের হাতেখড়িরও আয়োজন করা হবে।
বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনার পুরোদস্তুর প্রস্তুতি চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে। সরেজমিনে গতকাল দেখা গেছে, পুরো মাঠের চারপাশে মন্ডপ বসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট-ইনস্টিটিউটের। ৭৪টি মন্ডপ তৈরি করা হচ্ছে জগন্নাথ হলের মাঠে। সব পূজামন্ডপেই চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। রাতের মধ্যেই মন্ডপের কাজ শেষ করার তাড়াহুড়ো সবার মধ্যে।
হলের মাঠে নিজ বিভাগের মন্ডপের কাজ তদারকি করছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রানী মুন্সি, তিনি বলেন, এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে। জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, ‘৭৪টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, রক্তদান কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়াও হলের অভ্যন্তরে দর্শনার্থী শিশু-কিশোরদের চিত্তবিনোদন উপযোগী বেশ কিছু রাইড, খেলনা ও বিশুদ্ধ খাবার দোকানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আগত পুণ্যার্থীদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আমাদের পাশে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সি।