প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের বামপন্থি দলের নেতারা। তাঁরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সংকটগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। দুই দেশের মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা তা সমতার ভিত্তিতেই সমাধান হওয়া দরকার।
শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সহ নানা আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এ বৈঠকের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে। বৈঠকের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশের জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দুই দেশের নানা বিষয় নিয়ে সংকট থাকলেও তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। দুই দেশের শীর্ষ নেতারা যে বৈঠক করেছেন তা ইতিবাচক। আমরা চাই সমমর্যাদার ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান হোক।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানি বাংলাদেশের প্রবল আগ্রহের কারণেই দুই দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে বৈঠকে কে কী বলেছেন, প্রতি উত্তরে কী বলা হয়েছে সেই সঠিক তথ্যটা জানতে চাই। প্রতিবেশী দুই দেশের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।’ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার বৈঠকটি বহুলপ্রতীক্ষিত। যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটা পরের প্রশ্ন। তবে বৈঠকের ফল ইতিবাচক। ড. ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের চলমান সংকটগুলো তুলে ধরেছেন। বিপরীতে নরেন্দ্র মোদি নেতিবাচক মনোভাব দেখাননি। বাংলাদেশের গৃহীত পররাষ্ট্রনীতির ফলে ভারত এখন চাপে আছে সেটা বৈঠক থেকে বোঝা গেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন চাইছে। তারা বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে ভারতের পরিবেশ স্থিতিশীল থাকবে না। নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে ভারত এখন বাংলাদেশের জনগণ এবং জনমুখী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির বিষয়ে কথা বলেছে।’