যৌথ বাহিনীর হাতে আটকের পর নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ হেফাজতে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবদুর রহমান (৩৩) জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হীরাপুর গ্রামের মাওলানা সাইদুল হকের ছেলে। তিনি সোনাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুর রহমান দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে ছিলেন। এদিকে সাবেক এ ছাত্রদল নেতার মৃত্যুতে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, আবদুর রহমানকে রক্ষা করার জন্য বিএনপি নেতাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে।
জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ আবদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান (২৫) নামে দুই যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিক তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুর রহমান মারা যান। তাদের দুজনেরই শরীরে জখম ছিল। হাসপাতালে ভর্তি হাবিবুর রহমানের অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়। আবদুর রহমানের চাচা মো. হানিফ অভিযোগ করে বলেন, সোমবার ভোররাতের দিকে যৌথ বাহিনী সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে আমার ভাতিজা আবদুর রহমান ও একই বাড়ির আরেক ভাতিজা হাবিবুর রহমানকে তাদের ঘর থেকে আটক করে যৌথ বাহিনী। আটকের পর তাদের পরিবারের সদস্যদের সামনে মারধর করা হয়। তখন তাদের কাছ থেকে কার্তুজ ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে জানানো হয়। এরপর তাদের সোনাইমুড়ী থানায় সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। তখন মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যখন তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় তখন তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। তবে হাবিবের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।