রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার আনুমানিক বয়স ৪০। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ৩টায় মীরহাজিরবাগের তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা রোডের ইঞ্জিনিয়ার গলির পাকা রাস্তার ওপর ওই ব্যক্তির লাশ পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। তার পরনে শার্ট ও প্যান্ট ছিল। গতকাল যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আবদুল করিম বলেন, ওই ব্যক্তির মাথা ও পিঠে পাঁচটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার বাঁ হাতের রগ কাটা। বাঁ পায়ের নিচের অংশে, ডান পায়ের হাঁটু ও নিচের অংশেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
স্ত্রীকে অ্যাসিডে ঝলসে হত্যা : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় স্বামী কর্তৃক অ্যাসিডে ঝলসে দেওয়ার ১৩ দিন পরে মারা গেছেন স্ত্রী। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহের লক্ষ্যে গত সোমবার রাতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত স্বামী রুবেল মিয়া পলাতক রয়েছেন। গত ২৫ ডিসেম্বর শ্বশুরবাড়ি থেকে নিশিকে নিয়ে এসে মারধর করে অ্যাসিডে ঝলসে দেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে রেফার্ড করা হলে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় নিশিকে। তার ভালো হয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় ঢাকা থেকে ফের রংপুর মেডিকেলে আনা হয়। সেখান থেকে দুই দিন আগে বাড়িতে নিয়ে আসার পর সোমবার রাতে মারা যান নিশি।
স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ চেংমারী গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে রুবেল মিয়ার সঙ্গে পাশর্^বর্তী পূর্ব নবনীদাস গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে নিশি আক্তারের বিয়ে হয়। ইতোমধ্যে সংসারে তাদের তিনটি সন্তান হলেও জাল টাকা ও মাদক কারবারি রুবেল মিয়ার স্ত্রী নিশির ওপর অমানুষিক নির্যাতন করত। এমনকি টাকার লোভে অনৈতিক কাজে স্ত্রীকে বাধ্য করা হতো। সহ্য করতে না পেরে নিশি দফায় দফায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মারধর করে স্ত্রীকে ফেরত নিয়ে আসত রুবেল মিয়া। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত রুবেল মিয়া পলাতক রয়েছে। তবে নিশিকে অ্যাসিডে পুড়িয়ে মারা হয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ছাড়া বলা মুশকিল। তবে সুরতহাল রিপোর্টে দেখা যায়, তার শরীরে পোড়া ক্ষত রয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করবে বলে শুনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।