বর্তমানে দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো হয়ে পড়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক। বিশেষ করে বিনোদনমূলক কনটেন্টগুলো টিভিতে প্রচারের পাশাপাশি চ্যানেলের নিজস্ব ইউটিউবে অর্থাৎ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচার করা হচ্ছে। বছরের দুই ঈদে এ দ্বৈত প্রচারের আধিক্য বেশি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে নাটকের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু কেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিভি চ্যানেলের জন্য নির্মিত অনুষ্ঠান প্রচার হয়? এ বিষয়ে কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের কর্তাব্যক্তির বক্তব্য তুলে ধরেছেন - আলাউদ্দীন মাজিদ
ভিউয়ার্স ও বিজনেস দুই-ই প্রধান
ভিউয়ার্স ও বিজনেস, এ দুটি বিষয় মাথায় রেখে আমরা কনটেন্ট ডিজাইন করে থাকি। ভিউয়ার্সশিপ গেইন এবং এর সঙ্গে বিজনেস ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কারণ এখন বড় অঙ্কের অর্থ লগ্নি করতে হয় কনটেন্ট সংগ্রহ করতে। টিভির ভিউয়ার্স তো আছেই, টিভির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আছে কনটেন্টটা কী পরিমাণ দর্শক দেখছে। কত সময় দেখছে। এর একটি নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। আর বিজনেসের ক্ষেত্রে বলতে হয় যিনি পণ্যের প্রচার চান তিনিও একটি সলিড নম্বর পান যে আমার এ পণ্যটি ওই প্রোডাক্টের মধ্যে রিপলেসমেন্ট করা আছে। এ পরিমাণ দর্শকের কাছে পণ্যটি পৌঁছাতে পেরেছি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রিইউজ হয়। এ রিইউজ করতে গেলে টিভিতে তো একটা অনএয়ার করলাম, পরে রিপিট অনএয়ার করা যায়। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে- যেমন টিকটক, রিলস, ফেসবুক, টেপিংস-এ ভিউয়ার্স গেইন করা যায়। এনগেজমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে ভিউয়ার্সের সঙ্গে, এখানে কানেকটিভিটি বাড়ছে। প্লাস বিজনেসও হচ্ছে, প্লাস যিনি এটাকে ব্র্যান্ডিং করছেন তিনি তার পণ্যের প্রমোশন এখানে পাচ্ছেন। তাই আমরা বলি ডিজিটাল ডিমান্ড যেটি রিজিনেবল থাকে নম্বর অব ভিউ সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ডিজিটালের ক্ষেত্রে। কিন্তু তাই বলে যে, টিভিতে ভিউয়ার্স কম তা কিন্তু নয়। একটা বড় পপুলেশন এখনো টিভি দেখেন। টিভি ভিউয়ার্সের একটি ক্যাটাগরি যদি করি আর্নিং ও এডুকেশন ক্লাস এবং আরবান ও রুরাল এরিয়া সে ক্ষেত্রে বড় একটা দর্শক অংশ থাকে টিভিতে। টিভি চ্যানেলগুলোতে কোটি কোটি টাকার কনটেন্ট লাগে ফেস্টিভ্যালগুলোতে। বিশেষ করে দুই ঈদে যদি আট দিন করে ঈদ উৎসব অনুষ্ঠান সাজানো হয় তাহলে বিনোদনমূলক টিভি চ্যানেল ৬০-৭০টি করে কনটেন্ট অনএয়ার করতে গিয়ে সেগুলোতে বড় অঙ্কের আর্থিক লগ্নি হয়। তাই এখানে যদি মাল্টিপল ওয়েতে বিজনেস করা না হয় তাহলে শুধু টিভি দিয়ে বিজনেস করে বড় অঙ্কের লগ্নি তুলে আনা অসম্ভব। তাই এর মাল্টিপল ব্যবহার লাগবে। আমাদের চ্যানেল বিনোদন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। ইউটিউব এবং ফেসবুককেও আমরা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বলি। আসলে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মই বিনোদনের একটি বড় অংশজুড়ে আছে। তাই টিভি চ্যানেলগুলোকেও বহুমুখী করতে হয়েছে। ভার্সেটাইল ওয়ে অব ভিউয়ার্স গেইন করতেই এটি করতে হয়েছে।
নির্মাণব্যয় বেড়েছে, কমেছে বিজ্ঞাপন রেট
বর্তমান সময়ে বিজ্ঞাপনের রেট অনেক কমে গেছে। আগে যে বিজ্ঞাপনের রেট ছিল ৬০ থেকে ৪০ হাজার টাকা তা এখন নেমে ১২ থেকে ৬ হাজারে চলে এসেছে। এর বিপরীতে এখন অনুষ্ঠান নির্মাণে বাজেট অনেক বেড়ে গেছে। আগে একটি নাটক ২-৩ লাখ টাকায় কেনা যেত। আর এখন সেই নাটক কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে ৮-১০ লাখ টাকা। এ অবস্থায় কীভাবে একটি অনুষ্ঠান শুধু টিভি চ্যানেলে প্রচার করে খরচ তোলা যাবে। তাই টিভির পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একই অনুষ্ঠান প্রচারের বিকল্প নেই। যারা ডিজিটালে প্রচারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে তারা বিনিয়োগকৃত ইনভেস্ট ফেরত আনতেই বাধ্য হয়ে তা করছে। ডিজিটালে ভিউ বেশি হয়। এই প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান দেখতে এখন দর্শক আগ্রহও বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভিউ ও বাণিজ্যের খাতিরে টিভি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচার করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোকে টিকিয়ে রাখতে অনুষ্ঠানে নতুনত্ব আনতে হবে।
বাজেট ও মাধ্যম বেড়েছে
নাটকসহ সব অনুষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে দেখার অনেক মাধ্যম গড়ে উঠেছে। শুধু একটি মাধ্যমে দর্শক দেখতে চায় না। তাই নানা মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রচার করতে হয়। আমরা টেলিভিশন মানে ড্রইংরুমের পারিবারিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে সেভাবে গল্প নির্বাচন করে নাটক নির্মাণ করি। এটাও লক্ষ্য রাখি যে সব প্ল্যাটফর্মের দর্শক উপযোগী যেন হয় নাটক বা অনুষ্ঠানটি। যেহেতু নাটক ও অনুষ্ঠানের বাজেট বেড়ে গেছে তাই ব্যয়ও বেড়েছে। এতে একসঙ্গে অনেক প্ল্যাটফর্মে প্রচারের কথা মাথায় রেখেই নাটক বা অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করতে হয়।