ঈদের অনাবিল আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার-পরিজনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র কিংবা প্রকৃতির মাঝে ছুটে যাচ্ছেন। এবার সরকারি ছুটি বেশি পাওয়ায় সবাই সময় কাটাতে বের হয়েছেন। কেউ ঘুরছেন প্রাচীন দর্শনীয় স্থান দেখতে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।
ঈদের দিন থেকেই শহরের কোলাহল ছেড়ে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন জাতীয় উদ্যান, ঐতিহাসিক রামসাগর, বীরগঞ্জ শালবন এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রে।
সাগর নয়, তবুও নাম তার রামসাগর। মধ্যযুগের বিখ্যাত সামন্ত রাজার অমর কীর্তি দিনাজপুরের রামসাগর সারাবাংলার এক ঐতিহাসিক দীঘি। এখানে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বিশাল জলরাশি, কৃত্রিম পাহাড় ও মিনি চিড়িয়াখানা। প্রাকৃতিক অপরূপ নয়নাভিরাম দীঘিটি দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যায়। জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে মায়াবী চিত্রা হরিণ, অজগর সাপ, হনুমান, বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী এবং শিশুদের জন্য বিশেষ পার্ক।
ঈদে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে স্বপ্নপুরী, সুরা মসজিদ, নয়াবাদ মসজিদ, রাজবাড়ী, খানসামার জিয়া সেতু, আত্রাই নদীর তীর, চিরিরবন্দরে নদীর ওপর ভাঙা রেলসেতু, নবাবগঞ্জের আশুড়ার বিল ও বনাঞ্চল, মোহনপুর রাবার ড্যাম ও সুখসাগরে।
ঈদের পরবর্তী দিনে ক্লান্তিময় ও একঘেয়েমি জীবন থেকে বেরিয়ে প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ছুটছেন গৌরিপুর সুইচগেট ও মোহনপুর রাবার ড্যামে। এসব স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় অস্থায়ী খাবারের দোকান বসেছে। নদীতে চলছে নৌকা ভ্রমণ। দর্শনার্থীরা নদীর তীরে বসে মুখরোচক খাবার উপভোগ করছেন।
এছাড়া বিনোদনপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের বড়মাঠ এলাকা, শিশু পার্ক, সিটি পার্ক, দাদুবাড়ী, বিরলের জীবনমহল, নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান ও বীরগঞ্জের সিংড়া ফরেস্ট।
সিটি পার্কের দেয়ালে স্থাপিত মুর্যাল, বিভিন্ন পশুপাখির অবিকল ভাস্কর্য, ইলেকট্রিক দোলনা, নাগরদোলা, ট্রেন ও অ্যাকুরিয়াম দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
দর্শনার্থী আরমান হোসেন চৌধুরী ও মোসাদ্দেক হোসেন জানান, পূনর্ভবা নদীর ওপর গৌরিপুর সেতু ও সুইচগেটটি বিরল এবং সদর উপজেলার অন্যতম সেতুবন্ধন। কৃষিকাজে এটি ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। নদীর স্বচ্ছ জলে প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি সবাইকে মুগ্ধ করছে। রাস্তার দু’পাশের বাঁশঝাড়ের সবুজ শ্যামলতা দর্শনার্থীদের আরও বেশি আকর্ষণ করছে।
অনেকে নিরিবিলি সময় কাটাতে ছুটছেন রামসাগর, স্বপ্নপুরী, আত্রাই নদীর তীর ও জিয়া সেতুর কাছে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক