কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের খদ্দোসাধুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রায় ২০ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হয়। রাতেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গ্রেপ্তারের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে। এরপর আফজাল কাজী (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় খোকসা থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন শিশুটির মা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আফজাল কাজী একই গ্রামের মৃত ইমান আলী কাজীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা প্রায় এক বছর প্রবাসে জীবনযাপন করছেন। তিন বোনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার শিশুটি বড়। পুলিশ ও স্বজনেরা জানায়, মঙ্গলবার সকালে ওই শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে পেঁয়াজ কাটার জন্য আফজাল কাজী তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়।
অন্য শিশুরা দিনের ভাগে বাড়ি ফেরে। তবে ৮ বছর বয়সী ওই মেয়ে শিশুটি পেঁয়াজ কাটতেই থাকে। রাত ৮টার দিকে শিশুকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আফজাল কাজী তাকে নিয়ে রওনা হয়। পথের মধ্যে রাস্তার পাশে একটি নির্জন স্থানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে (শিশুকে) নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায় আফজাল কাজী নিজেই।
পরদিন বুধবার দুপুরে শিশুটি পেটের ব্যথায় অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ধর্ষণের ঘটনা বেরিয়ে আসে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পরলে রাতেই ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী আফজাল কাজীর বাড়ি ঘেড়াও করে। পরে থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
শিশুটির চাচা জানান, আফজাল কাজী শিশুটির সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
খোকসা থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের গাড়িতে করে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই শিশুর চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় বুধবার রাতেই তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ