নীলফামারীর নদনদী এখন পানিশূন্য। একসময় এসব নদীর পানি দিয়ে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হতো। নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। ভরাট হয়ে নদনদী এখন পানিশূন্য; পাশাপাশি মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে মাছের ওপর নির্ভরশীল জেলেরা হয়ে পড়েছে বেকার। জেলে পরিবারগুলো হয়ে গেছে অসহায়। এসব নদনদী এখন স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও নদনদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অনেক কৃষক করছে ফসলের আবাদ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে চাড়ালকাটা, বুড়িতিস্তা, বুড়িখোড়া, ধুম, কুমলাই, নাউতারা, যমুনেশ্বরী, নলডাঙ্গা, ইছামতী, খড়খড়িয়া, বুলাই, দেওনাই, শালকী, চারা, ধাইজান, চিকলীসহ ছোটবড় ৩৭টি নদী। নাব্য হারিয়ে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে ডোমার শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া শালকী নদী। মরা খালে পরিণত হয়েছে নীলফামারী কিশোরগঞ্জ দিয়ে বয়ে যাওয়া চাড়ালকাটা নদী। খনন করা হলেও নদীটি পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নদীর কোলে দুলছে বোরো ধানের গাছ। নীলফামারী শহর ঘেঁষে বয়ে গেছে বামনডাঙ্গা নদী। আজ আর নেই সেই নদী। ভরাট হয়ে ও দখলদারদের কবলে পড়ে পানিপ্রবাহ কমায় ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে ক্ষীণধারায়। অধিকাংশ নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জেগেছে অসংখ্য ছোটবড় চর। সেসব চর এখন আবাদি জমি। কোনো কোনো নদী এখন ধান খেত। এই বেহাল দশা দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি একসময় নদী ছিল। পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে যেটুকু চিহ্ন আছে, তা অনেকে দখল করে নিয়েছে। দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবকাঠামো। ওই এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর রহমান বলেন, শালকী নদী ব্যবহার করে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা যায়।
নীলফামারী উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবু মুসা মাহমুদুল হক বলেন, বর্তমানে নদীতে পানিপ্রবাহ না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে। এতে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি আগামী প্রজন্মের কাছে নদী শব্দটি মুছে যেতে বসেছে। স্থান করে নিচ্ছে ইতিহাসের পাতায়। দেশি জাতের মাছও হারিয়ে যাচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নীলফামারী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো আতিকুর রহমান বলেন, নদীতে পানি আসে উজান থেকে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আবহাওয়াজনিত কারণ, উজান থেকে পানি না আসায় ছোট নদনদীতে পানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। নদীর তলানিতে ধান চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। যেহেতু ধানি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, তাই নিষেধ করা সত্ত্বেও চাষাবাদ করা হচ্ছে।