চট্টগ্রাম মহানগরের উল্লেখযোগ্য এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয় চাক্তাই খাল দিয়ে। কিন্তু এখনো এ খালের বিভিন্ন অংশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে আর মাটি ভরাট করে রাখা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ডিসি রোড এলাকার খালের সংস্কার চলছে। আর এ কারণে খাল দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকলিয়া সৈয়দ শাহ্ রোড এলাকায় খালের মাঝেই আছে মাটি। চলছে মাটি খননকাজ। জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পের অধীন এসব কাজ চলছে। ফলে প্রশ্ন আসছে- আর চার মাস পরই বর্ষা মৌসুম। এখনো চলছে অনেক খালের সংস্কার কাজ। কী হবে আগামী বর্ষা মৌসুমে। জলাবদ্ধতার অবস্থা কেমন হবে।
বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পিত ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্য অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ফোরাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান নির্ণয়ে কাজ করছে। এ নিয়ে ১১টি করণীয় মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হয়। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি সময় নিয়ে কাজগুলো করতে হবে। পরিকল্পনা মতে কাজ করলে আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে মনে করি। তবে তার এ মতের সঙ্গে অনেকে দ্বিমত করে বলেছেন, প্রতিবছর উন্নয়নের কথা বলে খাল ভরাট করে রাখে। বর্ষার সময় দেখা যায় সেই উন্নয়নেই জলাবদ্ধতাকে ত্বরান্বিত করেছে।
সিডিএর মেগা প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, প্রকল্পের কাজ এখন পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ শেষ। এখন খালগুলো সংস্কার-উন্নয়ন করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য আগামী মধ্য মের মধ্যে খালের সব মাটি তুলে পানি চলাচলের জন্য উপযুক্ত করা। আশা করি, এটা সম্ভব হবে। তিনি এও মন্তব্য করেন, খাল-নালা যতই পরিষ্কার করা হোক না কেন, বর্জ্য ফেলা বন্ধ না করলে জলাবদ্ধতা কখনোই কমবে না। এ ব্যাপারে সবাইকেই দায়িত্বশীল এবং সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। না হয় আমরা পরিষ্কার করব, সেখানে আবার বর্জ্য ফেলা হবে- এমন ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না। জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতার বিষয়টি এবার সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনটি সংস্থার ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকার চার প্রকল্প : বর্তমানে নগরের জলবদ্ধতা নিরসনে তিনটি সংস্থার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সিডিএ ৩ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল’ পর্যন্ত সাড়ে আট কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে। প্রকল্পটি তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে গত জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৮২ শতাংশ। তা ছাড়া, ২০১৪ সালে চসিক ‘বহদ্দার হাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন একটি খাল খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ৩৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চার দফা সংশোধনের পর বর্তমানে প্রকল্পটি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
তা ছাড়া, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১ হাজার ৬২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশ।