দীর্ঘ ১০ বছর ৬ মাস আইনি লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনির বিরুদ্ধে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল হকের দায়ের করা ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ এর বিজ্ঞ বিচারক মো. বিল্লাল হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি খারিজ করে রায় দেন। মামলাটির বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. গোলাম মোস্তফা। তার সহযোগী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. আজহার হোসেন ও অ্যাড. আরিফুর রহমান আলো।
রায় শেষে অ্যাড. গোলাম মোস্তফা জানান, গত ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘সাবেকদের আমলনামা’ ‘সাতক্ষীরাকে দেশ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন রুহুল হক’ শিরোনামে তৎকালীন সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল হকের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে স্বাস্থ্য খাতের লুটপাট, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতিসহ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ইলা হক ও ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট এবং লাখ লাখ টাকা চাকরি বাণিজ্যের খবর প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং দলীয় কর্মসূচিতে না থেকে ঢাকায় অবস্থানসহ সাতক্ষীরার রাজনৈতিক সহিংসতা ও দেশ থেকে সাতক্ষীরা জেলা বিচ্ছিন্নের খবর বেরিয়ে আসে। এ ঘটনার পর দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদের পাহাড় তৈরি এবং সম্পদের তথ্য গোপন করে তথ্য বিবরণীতে তার সম্পদের নয়-ছয় এর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। এই মামলা থেকে বাঁচতে তিনি ২০১৪ সালের ২ জুন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও পত্রিকাটির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি (সংবাদদাতা) মনিরুল ইসলাম মনির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ এ ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার বিবাদী পত্রিকাটির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে নিউজের স্বপক্ষে আদালতে জবাব দাখিল করেন।
অন্যদিকে দুদকে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি বিগত শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হওয়ায় তার বোন শেখ রেহানা ও তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে রেহাই পান ডা. রুহুল হক। ২০১৪ সালের ২ জুন রুহুল হকের সাতক্ষীরা আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক জিপি অ্যাড. শম্ভুনাথ সিংহ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে মামলাটি দীর্ঘদিন পরিচালনা করে আসছিলেন। মামলার নথিতে ডা. রুহুল হক কর্তৃক তার নামে কোনো পাওয়ার নামা না থাকলেও বাদী ডা. রুহুল হকের পক্ষে জোরপূর্বক জিপির ক্ষমতা দেখিয়ে আইন বহির্ভূতভাবে প্রভাব খাটিয়ে মামলায় জবানবন্দি থেকে শুরু করে হয়রানি করে আসছিলেন।