অনেক নাটকের পর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুর্বার রাজশাহী। খেলতে নামে বিশেষ ব্যবস্থায়। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে প্রায় ভেস্তে যেতে বসা ম্যাচটি আয়োজনে বিশেষ পরিকল্পনায় প্লেয়িং কন্ডিশনে পরিবর্তন আনে বিসিবি। সেই বিশেষ সুবিধার সুযোগ নিয়ে শুধু দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে খেলেছে রাজশাহী। গতকাল সন্ধ্যায় বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের ছাড়া রংপুরের বিপক্ষে খেলেছেন তাসকিন আহমেদরা। খেলাটি মাঠে গড়িয়েছে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের শেষ মুহূর্তের হস্তক্ষেপে। রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটাররা চুক্তি মোতাবেক অর্থ পাননি। তাই গতকালের ম্যাচটি বয়কট করেন। বিদেশি ক্রিকেটারদের এমন সিদ্ধান্তে সন্ধ্যার ম্যাচটি মাঠে না গড়ানোর পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কারণ প্লেয়িং কন্ডিশনে পরিষ্কার উল্লেখ আছে, কোনো দলের পক্ষে বিদেশি ছাড়া ম্যাচ খেলা সম্ভব নয়। বাইলজ অনুযায়ী একটি দল সর্বোচ্চ ৪ বিদেশি নিয়ে একাদশ সাজাতে পারবে। আবার একই সঙ্গে ম্যাচ খেলতে একাদশে কমপক্ষে দুজন বিদেশিকে রাখতেই হবে। নাহলে ম্যাচ খেলা যাবে না। বিদেশি ক্রিকেটাররা ম্যাচ বয়কট করায় রাজশাহী-রংপুর ম্যাচটি ভেস্তে যেতে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপে প্লেয়িং কন্ডিশনে পরিবর্তন আনে টুর্নামেন্ট কমিটি। দেশি ক্রিকেটারদের নিয়েই মাঠে নেমেছে রাজশাহী।
বিশেষ ব্যবস্থার পরিবর্তিত প্লেয়িং কন্ডিশন নিয়ে বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান প্রধান ও সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেন, ‘দুর্বার রাজশাহী আমাদের জানিয়েছে, তাদের বিদেশি ক্রিকেটাররা অ্যানঅ্যাভেইলঅ্যাবল। তারা অনুরোধ করেছে, শুধু দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে একাদশ সাজাতে চায়। আমরা তখন ব্যাপারটি খতিয়ে দেখেছি। প্লেয়িং কন্ডিশনে এ রকম ধারা আছে বিশেষ বিবেচনায়। আমরা তাদের সেই বিশেষ অনুমতি দিয়েছি।’ বিসিবি ম্যাচ শুরুর আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, বিপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশনের ১.২.৮ ধারা অনুযায়ী এই অনুমতি দিয়েছে টেকনিক্যাল কমিটি। বিদেশি ক্রিকেটার না খেলার বিষয়টি টসের সময় স্বীকার করেন দুর্বার রাজশাহীর অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের একাদশে চার-পাঁচটি পরিবর্তন হয়েছে। কারন কোনো বিদেশি ক্রিকেটার খেলছেন না আজ (গতকাল)। স্থানীয় ক্রিকেটার দিয়ে আমরা একাদশ সাজিয়েছি।’
বিপিএল শুরুর পর থেকেই দুর্বার রাজশাহীর দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক না পাওয়ায় চট্টগ্রামে একদিন অনুশীলন বর্জন করেন দলটির ক্রিকেটাররা। যদিও অনুশীলন বর্জনের বিষয়টি অস্বীকার করে রাজশাহীর ম্যানেজমেন্ট। বিসিবির সমঝোতায় ক্রিকেটাররা পরবর্তীতে ম্যাচ খেলেন। এরপর চট্টগ্রাম পর্বে রংপুর রাইডার্সকে হারায়। দুরন্ত খেলতে থাকা রংপুরকে হারানোয় রাজশাহীর ম্যানেজমেন্ট প্রতি ক্রিকেটারকে ১ লাখ করে বোনাসের ঘোষণা দেন। ক্রিকেটাররা বোনাসের চেয়ে পারিশ্রমিকের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেন ম্যানেজমেন্টকে। এরপর টিম ম্যানেজমেন্ট দলটির জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে অর্থ দেয়। অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি কয়েকজন ক্রিকেটার স্বীকারও করেন। কিন্তু বিদেশি ক্রিকেটাররা চুক্তির অর্থ পেতে দরকষাকষি করেন ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। গতকাল অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ম্যাচ বয়কট করেন দলের বিদেশি ক্রিকেটাররা। খেলতে আসা রাজশাহীর ৬ বিদেশি ক্রিকেটার- রায়ান বার্ল, মোহাম্মদ হারিস, মার্ক দেওয়াল, মিগুয়েল কামিন্স, আফতাব আলম ও লাহিরু সামারাকুন।
শুধু পারিশ্রমিক ঝামেলা নয়, বিল বাকি থাকায় দলটির দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের হোটেল ছাড়ারও কথা বলে স্থানীয় একটি পাঁচতারা হোটেল। এর পরপরই সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে। বিদেশি ক্রিকেটারদের অর্থকড়ি নিয়ে এবারই প্রথম সমস্যার মুখে পরেনি বিসিবি। ২০১২ সালে ১৩ ইংলিশ ক্রিকেটার অর্থ না পাওয়ায় আইসিসি বরাবর নালিশ করেছিলেন।