সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজির টেপারবিলে আগুন পুরোপুরি না নিভতেই সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে গুলিশাখালী বন টহল ফাঁড়ির বড় এলাকাজুড়ে নতুন করে আগুন লেগেছে। জ্বলছে দাউ দাউ করে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে সংবাদকর্মীরা কলমতেজিতে ড্রোন উড়িয়ে এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গুলিশাখালীতে নতুন করে বড় এলাকাজুড়ে আগুনে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পায়। নতুন এলাকায় আগুনের বিষয়টি জানতে পেরে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত সেখানে গিয়ে বড় এলাকাজুড়ে চারটি স্থানে আগুন জ্বলতে দেখে। পরে তারা নালা কেটে (ফায়ার লেন) আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ এই বনের চার কিলোমিটর অভ্যন্তরে নতুন করে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অগ্নিকাণ্ড এলাকায় নালা কাটা (লেইন অব ফায়ার) শুরু করা হয়েছে। যাতে বনের ব্যাপক এলাকায় আগুন ছড়াতে না পারে। গুলিশাখালী এলাকায় নতুন করে আগুন লাগা এলাকার কাছাকাছি কোথাও পানির কোনো উৎস নেই। গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ ফায়ার লাইন কাটা ও বন বিভাগসহ ফায়ার সার্ভিসের পানির পাইপ লাইন টানার পরই গুলিশাখালীতে বনে নতুন করে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হবে।
এর আগে গত শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দবন বিভাগের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজি টহল ফাঁড়ির টেপারবিল এলাকায় লাগা আগুন গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত পুরোপুরি নেভেনি। বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসের শরণখোলা, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া ইউনিটের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রচেষ্টার পর আগুন ৯০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। টেপারবিলে আগুনে চার একর বনভূমির গাছপালা পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে সুন্দরবন বিভগ। এদিকে, টেপারবিলে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান ও বনভূমির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বিপন চন্দ্র দাস জানান, কলমতেজির টেপারবিলে আগুন পুরোপুরি নেভেনি। পূর্বের অভিজ্ঞতা বলছে, গাছের পাতা পড়ে পচে সুন্দরবনের মাটির নিচে মিথেন গ্যাস থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও মাটির নিচে গাছের মরা শিকড় বেয়ে অধোয়ার কু লী পাকিয়ে ফের আগুন জ্বলে উঠতে পারে। সে কারণে আরও কয়েকদিন অগ্নিকাে র স্থানটিতে বন বিভাগের লোকজন থাকবে।