‘লিবিয়ায় যে চার মাস ছিলাম, দুই বেলা খাবার জোটেনি। ভাত তো দেয়ইনি। শুধু মেরেছে।’ এটি লিবিয়াফেরত এক প্রবাসীর ভাষ্য। আরেকজন বললেন, ‘পাঁচ মাস কাজ করেছি, বেতন দিয়েছে এক মাসের। আমাকে মাফিয়া ধরেছিল। ২৬ লাখ টাকা নিয়েছে। পাঁচ মাস জেল খেটেছি। এমনভাবে তারা আমাকে নির্যাতন করেছে, এখন কথা বলতেই কষ্ট হচ্ছে।’ লিবিয়াফেরত বাংলাদেশিরা এভাবে ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন।
অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে বিপদগ্রস্ত ও পাচারের শিকার ১৭৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই প্রবাসীরা তুলে ধরছেন সেখানে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের কথা। আইওএমের সহযোগিতায় বোরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে গতকাল ভোর সোয়া ৪টায় দেশে ফেরেন ১৭৬ বাংলাদেশি। ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও তদন্ত শেষে সকাল ৮টায় বের হন সবাই। ভয়াবহ নির্যাতন সহ্য করে সাক্ষাৎ মৃত্যু থেকে বেঁচে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত তারা। লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা বাকি বাংলাদেশিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি ভুক্তভোগীদের। পাশাপাশি দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। ভুক্তভোগী এক প্রবাসী বললেন, দেশে যত কষ্টই হোক না কেন, কেউ যেন আর লিবিয়া না যায়। দেশে ফেরা ১৭৬ জনের মধ্যে ১০৬ জন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। আর বাকি ৭০ জন বিপদগ্রস্ত অবস্থা থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ১২ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ। ডিটেনশন সেন্টারে থাকা বেশির ভাগই দালালের মাধ্যমে ইতালি পাড়ি জমানোর জন্য দেশ ছেড়েছিলেন। দালালদের এ সিন্ডিকেটের বিচার চান ভুক্তভোগীর স্বজনরা। ১৯ ও ২৬ মার্চ আরও তিন শতাধিক বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস।