সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, তার পরিবার ও তার স্বার্থ- সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা ৫৪ কাঠা জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। যার দলিল মূল্য ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেখানো হলেও দুদকের আবেদনে এর প্রকৃত মূল্য ৯ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন এ সম্পত্তি জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, সামিট গ্রুপ এবং তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসহ ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য একটি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মালিকাধীন স্থাবর সম্পদ হস্তান্তর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এজন্য তার মালিকাধীন স্থাবর সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন। এর আগে গত ৯ মার্চ সামিট গ্রুপের ১৯১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত। এসব হিসাবে ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকা রয়েছে।
সিকদার গ্রুপের ১৪ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মৃত জয়নুল হক সিকদার পরিবারের ১৪ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন- জয়নুল হকের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, ছেলে মমতাজুল হক সিকদার, দিপু হক সিকদার, রন হক সিকদার ও রনের ছেলে শন হক সিকদার, রিক হক সিকদার ও রিকের ছেলে জন হক শিকদার, জয়নুলের মেয়ে লিসা ফাতেমা হক সিকদার, নাসিম সিকদার ও নাসিমার মেয়ে মনিকা খান সিকদার, পারভীন হক সিকদার ও পারভীনের মেয়ে জেফরী খান সিকদার, মেন্ডি খান সিকদার ও পারভীন হকের স্বামী সালাহউদ্দিন খান। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদকের আবেদন সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়।