ম্যাটস, ডিএমএফ ইস্যুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও পাঁচ দফা দাবিতে রংপুরে মেডিকেল শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন ও চিকিৎসকদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার তারা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকরা।
এতে বক্তব্য রাখেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আবু রায়হান, ডা. আনাস মাহমুদ, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডা. তাসকিন বিন মাহমুদ রাফিদ, ডা. ফরহাদ আক্তার, মেডিকেল শিক্ষার্থী ফাহিম তাজওয়ার, তৌহিদ ইসলাম, ডা. মাহমুদুল হাসান ও ডা. আরিফ হাসনাত। তারা বলেন, চিকিৎসক সমাজের পেশাগত মর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রশ্নে প্রায় ২০ দিন ধরে আন্দোলন চলছে। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যৌক্তিক বাস্তবায়নে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে চিকিৎসক সমাজ হতাশ হয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। অবিলম্বে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে আউটডোরের পর সব বিভাগের সেবা বন্ধ করে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন চিকিৎসকরা। এ দিকে পাঁচ দফার আন্দোলনকে ঘিরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সব আউটডোর সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে চিকিৎসকরা। এতে করে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে থাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মবিরতি পালন করছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক নাসিফ। সংবাদ সম্মেলনে এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাড়া কেউ নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে না পারা, আদালতে চলমান এ সংক্রান্ত আইন ও জনস্বাস্থ্য বিরোধী সব রিট ১২ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি করা, ডিপ্লোমা চিকিৎসক নামে বিভ্রান্তিকর কোনো পদবির প্রচলন না করা, রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ স্বাধীন ভাবে প্রাইভেট প্রাকটিস করতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করা। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্স কারিকুলাম সংস্কার কমিটি গঠন করে তাদের কোর্স কারিকুলাম পুনর্নির্ধারণ ও মানহীন সব ম্যাটস বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য শূন্যপদ পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ এবং চিকিৎসকদের বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করা, অনতিবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রনয়ন ও বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করার পাঁচ দফা দাবি জানান।