সারিবদ্ধ মুসল্লি। চার-পাঁচজন গোলাকার করে বসা। কেউ রিকশা চালক, কেউ শ্রমিক, কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা ধনী, কেউ ব্যবসায়ী। কিন্তু সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসছেন। সবাই এক সঙ্গে ইফতার করছেন। সবার ইফতারের মেনু অভিন্ন। যেন সবাই একই পরিবারের সদস্য। পরস্পরের মধ্যে নেই কোনো ভেদাভেদ। ধনী-গরিব একাকার। সাম্য, সৌহার্দ ও সম্প্রীতির অনন্য এক দৃষ্টান্ত।
চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের প্রতিদিনকার ইফতারের চিত্র এটি। প্রথম রমজান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ মানুষ এক কাতারে বসে ইফতার করছেন। তবে ২০ রমজানের পর থেকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যায়। বিভিন্ন ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতায় এ ইফতার আয়োজন করা হয়।
মসজিদ প্রাঙ্গণেই সাতজন বাবুর্চি দিয়ে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ইফতার তৈরির কার্যক্রম। ইফতার আইটেমের মধ্যে আছে- ছোলা, পিঁয়াজু, মুড়ি, বেগুনি, জিলাপি, শিঙাড়া, পুরি, সমুচা, খেজুর, শরবত ও সেমাই। রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, প্রায় সময় আমি এখানে ইফতার করি। সুশৃঙ্খল পরিবেশ। শান্তি লাগে। মসজিদের পেশ ইমাম ও ইফতার আয়োজন কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা হাফেজ আহমদুল হক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৭০০ মুসল্লি এখানে ইফতার করেন। আস্তে আস্তে এ সংখ্যা বাড়ে। শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতেকাফ করেন অন্তত ১৫০ জন মুসল্লি। তাদের ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থাও মসজিদ থেকে করা হবে। মসজিদের মুসল্লি পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিন্ন কাতারে বসে ইফতার করেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে জায়গাপ্রাপ্তি এবং ১৯৮৭ সালে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে তৎকালীন খতিব আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরীর (রহ.) হাত ধরেই মসজিদে ইফতার আয়োজনের যাত্রা হয়। তিনি ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।