গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা করতে ফারাক্কা বাঁধ ও গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) প্রতিনিধিদল। দুই দেশের প্রতিনিধিদল লঞ্চে করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায় গঙ্গা নদীতে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট অবজারভেশন সাইটে গিয়ে পানি প্রবাহের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।
জেআরসিবি সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, ‘জানুয়ারিতে পানির প্রবাহও ভালো ছিল। ফেব্রুয়ারিতে কমেছে। যদিও এটাই স্বাভাবিক। কোনো বছর কম থাকে কোনো বছর বেশি হয়।’ ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ পানি বাংলাদেশে যাওয়ার কথা সেটা যাচ্ছে, আবার যতটা ভারত পাওয়ার কথা সেটাও পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন ‘আগামী বছর গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে টেকনিক্যাল টিম গঠন করা হবে। তারাই বিষয়টি বলতে পারবেন।’
এর আগে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে প্রতিনিধিদলটি। এরপর কলকাতা থেকে ট্রেনে নিউ ফারাক্কা স্টেশনে পৌঁছায়। সোমবার রাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ফরাক্কা ব্যারাজের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপাণ্ডে ও ফারাক্কা ব্যারাজ প্রজেক্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আজ ফারাক্কা থেকে দুই দেশের প্রতিনিধি দল কলকাতায় ফিরবেন। এরপর আগামীকাল কলকাতার হায়াত রিজেন্সি হোটেলে ৮৬তম বৈঠকে মিলিত হবেন দুই দেশের জেআরসির সদস্যরা। শুক্রবার হবে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হয়েছিল। ৩০ বছরের সামগ্রিক চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে মাস- এই শুকনো মৌসুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহের কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়, নদীতে ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি পানি থাকলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক। বাকি পানি পাবে বাংলাদেশ। নদীতে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক পানি, অবশিষ্ট পানি পাবে ভারত। আবার ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে তা প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যেই সমান ভাগে ভাগ হবে।