মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিলসহ সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশগুলো থেকে ১২ বছরে ২০ হাজারের বেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অন্তত সাতজনকে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাচারকারী একটি আন্তর্জাতিক চক্রের দুই নেতাকে শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এডয়ার্ডো ডুমিঙ্গো রিনোজ-মাটুল ওরফে টুরকো এবং তার সহকারী ক্রিস্টোবাল মেজিয়া-সাজ নামক দুজনই গুয়াতেমালার নাগরিক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেওয়ার সময় অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। আবার চুক্তি অনুযায়ী যারা যথাসময়ে টাকা দিতে সক্ষম হন না বা দিতে টালবাহানা করেছেন তাদের জিম্মি করার ঘটনাও ঘটেছে। বিচার বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, এ দুজনের বিচার ২২ এপ্রিল শুরু হবে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিভিন্ন পথ মাড়িয়ে মেক্সিকোয় আস্তানা গাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ঢুকতে আগ্রহী একেকজনের কাছ থেকে ১৫-১৮ হাজার ডলার করে দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী যারা পরিশোধে সক্ষম তাদের ঠেলে দেওয়া হয় দুর্গম পথে, হিংস্র জন্তুর সঙ্গে ছলচাতুরী করে গভীর বনজঙ্গল অতিক্রমের জন্য। আর যারা টাকা দিতে চান না বা টালবাহানা করেন তাদের মেক্সিকো সীমান্তের ভিতরেই বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। সেজন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্ত অতিক্রমের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এবং ডিটেনশন সেন্টারে বেশ কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্ত ডজনখানেক বাংলাদেশি যুবক ইতঃপূর্বে এ সংবাদদাতার সঙ্গে তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ভয়ংকর স্মৃতি রোমন্থনকালে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশেই ওই নেটওয়ার্কের দালালরা টাকার চুক্তি করেন। ২৫ লাখ থেকে ২৮ লাখ টাকা করে নেওয়ার পরই বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে মধ্যপ্রাচ্য এবং এরপর ব্রাজিলের ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। ব্রাজিল থেকে শুরু হয় মেক্সিকো অভিমুখে যাত্রা। সেটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং মেক্সিকোয় পৌঁছার পর অপেক্ষার পালা শুরু হয়। ছোট্ট খুপরিতে থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা দালালরাই করেন। এরপর সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন পাচারকারীরা। কখনো ৮-১০ জনকে একত্রে, আবার কখনো এককভাবে ছেড়ে দেওয়া হয় সীমান্ত অতিক্রমের দুর্গম পথে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের ফেডারেল কোর্টে অন্য এক আন্তর্জাতিক আদম পাচারের মামলায় দুই বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ দেওয়া হয়। এরা ছিলেন মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৫) ও মোক্তার হোসেন। এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মেক্সিকোর টাপাচোলা আস্তানা থেকে। বর্তমান মামলায়ও পাচারকারী চক্রে কয়েকজন বাংলাদেশি জড়িত বলে শোনা যাচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ফ্লোরিডার মিয়ামি সমুদ্রোপকূল থেকে চার বাংলাদেশিসহ বেশ কজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগে।