ভারত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রধানদের বৈঠকে সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। দিল্লিতে লোদি রোডের বিএসএফের সদর দপ্তরে চার দিনব্যাপী বৈঠকের পর গতকাল বিএসএফ ডিজি দোলজিৎ সিং চৌধুরী ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনের এ কথা জানান। তারা উল্লেখ করেন, সীমান্তের মতবিরোধ দূর করতে উভয়পক্ষ যৌথ সরেজমিন সমীক্ষার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। সে অনুযায়ী, মানবিক অধিকার রক্ষা অর্থাৎ সীমান্ত হত্যা বন্ধে যৌথ টহল, নজরদারি, মানুষকে সচেতন করা, সীমান্ত এলাকায় আর্থিক সামাজিক প্রকল্প রূপায়ণ করা এবং উভয় সীমান্তে হত্যা বন্ধের জন্য তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।
বিজিবিপ্রধান সিদ্দিকী বলেন, উভয় বাহিনী নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব সমস্যা সমাধান করবে বলে আশা করছি। কাটা তারের বেড়া দেওয়া নিয়ে আমরা কয়েকটি এলাকার বিষয়ে আপত্তি করেছি। আশা করি, অচিরেই এ বিষয়ের সমাধান হবে। বিএসএফের ডিজি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিজিবির সযোগিতায় সীমান্ত থেকে অবৈধ অভিবাসীদের আগমন কমেছে। সীমান্ত হত্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমরা মারণাস্ত্র ব্যবহার করি না। তবে অনেক সময় বিএসএফ আক্রান্ত হলে পাল্টা গুলি করতে হয়। অনেক সময় যোগাযোগের অভাবে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বিএসএফ থেকে বলা হয়েছে সীমান্তের পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে।
বিজিবি ডিজি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ অতিরঞ্জিত। অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের রক্ষায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে বৈঠকের পর বিএসএফের প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষের আলোচনা সন্তোষজনক হয়েছে। পরবর্তী বৈঠক আগামী জুলাই মাসে ঢাকায় হবে।