জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। তিন দিনের ডিসি সম্মেলনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপদেষ্টা, সচিবসহ ঊর্ধ্বতনদের এক গুচ্ছ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন উদ্যমে গতকাল থেকে কর্মস্থলে কাজ শুরু করেছেন। মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ডিসিদের কড়া বার্তা দিয়েছেন ঊর্ধ্বতনরা। কেউ অনিয়মে জড়ালে বা অনিময়ে সহযোগিতা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য কল্যাণকর কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন ঊর্ধ্বতনরা।
তিন দিনের ডিসি সম্মেললন শেষ হয় মঙ্গলবার রাতে। অনেকেই রাতেই নিজ নিজ জেলার উদ্দেশে রওনা দেন। অনেকে গতকাল যাত্রা করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জেলার অনেক কিছু সামলাতে হচ্ছে তাদের। এরই মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মিলিত বার্তা ডিসিদের কর্মক্ষেত্রে আরও সহায়ক মনে করছেন অনেকেই।
সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এবারের ডিসি সম্মেলনটা সফল হয়েছে মনে করি। ডিসিদের যে বার্তা দেওয়া হয়েছে সততার সঙ্গে সঠিকভাবে পালন করার জন্য অবশ্যই তারা সেটা পালন করতে পারবেন। ডিসিরা এই সম্মেলনে অনেক উজ্জীবীত হয়েছেন। আগামীর যে কোনো কাজে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
বগুড়ার ডিসি হোসনা আফরোজা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এক দিনের ব্রিফিংয়ে আমরা জেলায় যোগদান করেছিলাম। এই সম্মেলনে সিনিয়র স্যাররা নির্দেশনা দিয়েছেন, তারা এক সময় ডিসি ছিলেন, মাঠে কাজ করেছেন। নির্দেশনার সঙ্গে নিজের কাজ মিলে যাওয়ায়
মনে হয়েছে সঠিক পথেই আছি। কোনো জেলায় কাজ করতে সমস্যা হলে আশা করি এরপর সেটিও থাকবে না।
ঢাকা বিভাগের এক ডিসি বলেন, সময় গড়াবে নির্বাচন যত কাছাকাছি হবে তত নানামুখী চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে। এই মুহূর্তে সামনে রোজা আছে, ফলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় আছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বরিশাল বিভাগের এক ডিসি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে ভয়ডরহীনভাবে কাজ করতে বলেছেন, ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে বলেছেন সিনিয়ররা।
এবারের ডিসি সম্মেলনে বড় অংশ আলোচনায় ছিল দেশের প্রত্যেক স্থানের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন করা। এ ছাড়া আগামীর নির্বাচন ছিল বিশেষ আলোচনায়। নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগের সমন্বয়ের বিষয়টি জোর দেওয়া হয়েছে এবারের সম্মেলনে। এ কারণে এবারই প্রথম ডিসি সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনকে আমন্ত্রণ জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ডিসি সম্মেলনের শেষ দিন শেষের দিকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ডিসিদের নির্ভয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন। সমে¥লনে অংশ নেওয়া ডিসিরা জানান, ইসির সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো আইনের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। যদি ডিসিরাও কোনো বেআইনি কাজ করেন, তাদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, সিইসি এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান একাধিক ডিসি। এখন থেকেই ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন সিইসি।
সামনে চ্যালেঞ্জ আছে, সেই চ্যানেল মোকাবিলায় ডিসিদের প্রস্তুত হতে নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
এবারের ডিসি সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে কতটা সমন্বয় হলো জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার তো একা একা চলে না। সবাই মিলে সরকার। সব বিভাগের সঙ্গে আমরা এখানে মুখোমুখি করিয়ে দিতে পেরেছি, আলোচনা হয়েছে। আশা করি, রেজাল্ট পাব। তাদের কাজকর্ম আরও সুসংহত হবে, আরও দক্ষতার সঙ্গে তারা কাজ করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ দুর্নীতি বিষয়ে আলোচনা হয় ডিসি সম্মেলনে। দেশ থেকে সব পর্যায়ে দুর্নীতি কমাতে ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ ছাড়া দুদকের সঙ্গেও অধিবেশন হয়েছে। সেখানেও দুর্নীতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন ডিসিরা। দুদক চেয়ারম্যান ডিসিদের দুর্নীতি প্রতিরোধে নির্দেশনা দেন।
ডিসি সম্মেলনে ডিসিদের প্রাপ্তি নিয়ে জনপ্রশাসন সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেছেন, এক কথায় বলতে পারি তারা মোটিভেটেড। তাদের কিছু ফাংশনাল ডিউটি আছে, সেই কাজগুলো তারা স্বউদ্যোগে আগের চেয়ে আরও উৎসাহের সঙ্গে জনস্বার্থে জনগণকে নিয়ে করবে।