বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর অনুরোধে ঝাড়খ- কেন্দ্রের সক্ষমতার পুরো ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহে সম্মত হয়েছে
আদানি পাওয়ার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ‘আদানি টু রেস্টর ফুল পাওয়ার টু বাংলাদেশ ইন ডেইজ বাট ডিফারেন্সেস রিমেইন, সে সোর্সেস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে
১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। তবে ভারতীয় এই কোম্পানি নিজ দেশে যে কর ছাড় পেয়েছে, সে সুবিধা এবং মূল্যছাড় প্রশ্নে ঢাকার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। শীত মৌসুমে চাহিদা কম থাকা ও বকেয়া পরিশোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চুক্তির অর্ধেক পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল আদানি পাওয়ার। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওই কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল আদানি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮৫ কোটি ডলারের বকেয়া আদায়ে গত ৩১ অক্টোবর বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক করে দেয় আদানি কর্তৃপক্ষ। গত ১ নভেম্বর একটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হলে কেন্দ্রের সক্ষমতার ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। পরে বাংলাদেশও আদানিকে অর্ধেক বিদ্যুৎই সরবরাহ করতে বলে।
তবে গ্রীষ্ম শুরুর আগে ঝাড়খ- কেন্দ্রের পুরো ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সম্প্রতি আদানি পাওয়ারকে অনুরোধ করে পিডিবি। সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে আগামী সপ্তাহ নাগাদ সক্ষমতার পুরো বিদ্যুৎ দিতে আদানি রাজি হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে দুটি সূত্র। দিল্লি ২০১৯ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ ঘোষণা করে। সে সুবাদে আয়কর এবং অন্যান্য শুল্কের ক্ষেত্রে ছাড় পাচ্ছে আদানি পাওয়ার। রয়টার্স লিখেছে, আদানি কর সুবিধার কারণে ভারতকে যে দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছে বাংলাদেশের বিদ্যুতের দামের ক্ষেত্রে যেন তা সমন্বয় করা হয়। পিডিবির এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বিদ্যুৎ কোম্পানিটি। এ ছাড়া আগে আদানি বিদ্যুতে যে মূল্যছাড় দিয়েছিল বাংলাদেশকে সেই সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য পিডিবি যে অনুরোধ করেছিল তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আদানি পাওয়ার গত বছরের মে মাস পর্যন্ত ওই মূল্যছাড় সুবিধা বাংলাদেশকে দিয়েছিল। এতে বাংলাদেশের প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়। সূত্র দুটির বরাতে রয়টার্স লিখেছে, পিডিবির আরও বেশ কয়েকটি দাবি পূরণে রাজি হয়নি আদানি পাওয়ার। গত মঙ্গলবার উভয় পক্ষের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। আদানি পাওয়ারের কথা উল্লেখ করে একটি সূত্র বলছে, তারা কোনো কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। এমনকি এক মিলিয়ন ডলারও না।