এক ডজনের বেশি নতুন সংজ্ঞা যুক্ত এবং চারটি অপরাধকে অজামিনযোগ্য করে হালনাগাদ করা হয়েছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫। রহিত করা হয়েছে বিতর্কিত ৯টি ধারা। জনপরিসরে আপত্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ আইন থেকে বুলিং বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারকেও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির অধীনে আনার পাশাপাশি অধ্যাদেশের ২৫ এর ৩ এ নারী ও শিশু সাইবার অপরাধকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। আগামী ৪২ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করা হবে। টিআইবিসহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজের পরামর্শে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার পর এ হালনাগাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিটি উপদেষ্টা শীষ হায়দার চৌধুরী। গতকাল আইসিটি বিভাগের সচিবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। সচিব বলেন, এরপরও যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে তবে তা জানালে আইন পাসের আগে সংশোধন, পরিমার্জনের সুযোগ থাকছে। দেশে সুপ্রশস্ত সাইবার স্পেসকে সুরক্ষায় নিবর্তনমূলক না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে সংস্কারের মানসিকতায় এটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারবে। পেনাল কোডে যেসব বিষয় আছে তা এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, বিজিডি গভসার্ট প্রকল্পের অধীনে যে কাজ চলছে তার বাইরে জনপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে আরও কার্যকর করতে অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের পর এর পরিধি আরও বাড়বে। সংবাদ সম্মেলনে সচিবের সঙ্গে আইসিটি নীতি উপদেষ্টা ফয়েজ আহমেদ তাইয়্যেব ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার সিদ্দীকা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজ বলেন, এ অধ্যাদেশ অপরাধবোধের দায়মুক্তি দিতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন একে কালাকানুন হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সে দিকটায় নজর দেওয়া হয়েছে। এটা যেন নিবর্তনমূলক না হয় সেজন্য সব ব্যবস্থা রাখা হয়। সাইবার সুরক্ষার সংজ্ঞায় ইন্টারনেটের সার্বক্ষণিক সংযুক্তি, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা গঠন, ব্যক্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিষয়কেও সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ আইনে দেশের সব পেশাজীবীকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। শব্দচয়নে বিতর্কিত বিষয়গুলোকে সতর্কতার সঙ্গে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিসিসির নিজস্ব সার্ট থাকবে। সচেতন নাগরিকদের আপত্তির মুখে সংশোধিত হয়েছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বেশ কিছু বিষয়। যুক্ত হয়েছে কয়েকটি নতুন ধারাও। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে শুরু করেছে সরকার। অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের কপিতে দেখা গেছে, এটি থেকে সন্ত্রাসবিরোধী ধারা ২৭ বাদ দিয়ে যৌন হয়রানি যুক্ত করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে সাইবার বুলিং। এ ছাড়াও ৮ এর ৩ উপ-ধারায় কনটেন্ট ব্লক করা হলে স্বচ্ছতার স্বার্থে সরকার সব ব্লক হওয়া কনটেন্টের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের ধারা যুক্ত করা হয়েছে নতুন করে। বলা হয়েছে, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের একক ক্ষমতা খর্ব করে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও উপযুক্ত প্রতিনিধিকে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কো-অপ্ট করার বিধান যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সাইবার কাউন্সিলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা আছে নতুন অধ্যাদেশে।