বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার নিরাপত্তা দিয়ে বিপুল টাকা ব্যয়ে লাগানো ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা কোনো কাজে লাগেনি। সিংহভাগ চুরি হয়েছে। যা আছে সেগুলোও এখন নষ্ট।
বরিশাল নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫/১৬ অর্থবছরে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীতে ৪৪০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। নগরীর সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা দিতে ৫৮টি স্থানে এসব ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরা তদারকির জন্য আটটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পর দুই মাসের মধ্যে এসব ক্যামেরার প্রায় ৮০ ভাগ সংযোগ ক্যাবল (অপটিক্যাল ফাইবার) চুরি হয়ে যায়। আবার বেশ কিছু ক্যামেরায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে এসব ক্যামেরা সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়ে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের বৈদ্যুতিক শাখার সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ বলেন, গত প্রায় ৯ বছর ধরে এসব ক্যামেরার বিষয়ে কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। ইলেকট্রনিক্স জিনিস চালু না থাকলে নষ্ট হয়ে যায়। ক্যামেরাগুলো চালু না করায় নষ্ট হয়ে গেছে। সিংহভাগ চুরি হয়েছে। ক্যাবল আর অবশিষ্ট নেই। ক্যামেরাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই তার কাছে। এ ক্যামেরা কোনোভাবেই চালু করা সম্ভব নয়। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আহসান হাবিব কামাল সিসি ক্যামেরাগুলো বসিয়েছিলেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরা পরিচালনার কোনো ব্যবস্থা করেনি। তার পরে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র হয়েও সিসি ক্যামেরার খবর রাখেননি। কয়েক কোটি টাকা অপচয় করে বসানো সিসি ক্যামেরা কোনো কাজে না আসায় নগরবাসী ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ক্যামেরা সচল থাকলে নগরীতে অপরাধ কমে যেত। যদিও মহানগর পুলিশ নগরীর ২৯ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে।