১০ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা রেলওয়ের জমি থেকে অবৈধ দখল নিজ নিজ উদ্যোগে সরাতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। তবে রেলের এমন নির্দেশ পাত্তা দেননি দখলদাররা। উল্টো নতুন করে দখল হয়েছে অনেক জমি।
সূত্র জানায়, নির্দেশের পর অনেকে তদবির করছেন উচ্ছেদের তালিকা থেকে নাম কাটাতে। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দখলদারদের রেলের জমি ভোগদখলের সুবিধা দেওয়া অনেক কর্মকর্তা বিপদে পড়েছেন। তারা দখলদারদের আদালতের স্টে অর্ডার আনতে কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নথিপত্রে রেলের বেদখল জমির পরিমাণ কম দেখানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খোদ রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে যেখানে ধারাবাহিক লোকসানে, সেখানে রেলের কিছু কর্মকর্তা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন শুধু রেলের জমি দখল বাণিজ্যের মাধ্যমে। মাঝেমধ্যে অভিযানের নামে অনৈতিক লেনদেনের পথ তৈরি করা হয়। লেনদেন হয়ে গেলে থেমে যায় অভিযান।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রেলের জমি উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়নি। তালিকা করে স্লট প্রস্তুত করা হচ্ছে। শিগগিরই অভিযান শুরু হবে।
জানা গেছে, রেলের জায়গা দখল করে সারা দেশে বহুতল ভবন, দোকান, বাজার, রাজনৈতিক কার্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, খেলার মাঠ, পার্কসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনা থেকে রেলের কোনো আয় নেই। অনেকে ভুয়া দলিল করে জমি দখলে রেখেছেন। ঢাকায় পুরাতন ফুলবাড়িয়া স্টেশন ও খিলগাঁও এলাকায় রেলের জমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়ে ১২টি বহুতল মার্কেট গড়ে তুলেছে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে আনন্দবাজার মার্কেটটি এখন আর সিটি করপোরেশনের দখলেও নেই। জায়গাটি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে রেলওয়ে ও সিটি করপোরেশন। বাকি ১১টি মার্কেট থেকেও ভাড়া পাচ্ছে না রেলওয়ে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের ৫ হাজার কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তি অবৈধ দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনের ভিতরে গড়ে ওঠা দোকানগুলো থেকেও ভাড়া পায় না রেলওয়ে। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রেলের ১.৮৪ একর জমি হরিলুটের চেষ্টা চলছে। মন্ত্রণালয়ের জমি খালি করার নির্দেশের পর জমিটি ভরাট করে পার্কের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। জমিটির একাংশে দেখা গেছে মন্দিরের সাইনবোর্ড। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলের কী পরিমাণ জমি বেদখলে আছে তা নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র বলছে, রেলের মোট জমি ৬১ হাজার ৮২০ দশমিক ৯৭ একর। রেলের কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার ২৮৬ একর। ইজারা দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৪৭৩ একর। অবৈধ দখলে আছে ৬ হাজার ৮৪০ একর। রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের মতে, বেদখল জমির পরিমাণ ১০ হাজার একরের বেশি হবে।