তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বোলু পার্বত্য এলাকার একটি স্কি রিসোর্টের হোটেলে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল রাতে অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে আতঙ্কিতদের অনেকেই আহত হয়েছেন। দেশটির বোলু পর্বতের চূড়ায় কার্তালকায়া স্কি রিসোর্টের হোটেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া বলেছেন, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৬৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, রিসোর্টের গ্র্যান্ড কার্টাল হোটেলের ১২ তলায় গতকাল ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগুনের খবরে দেশটির ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট সেখানে মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি দমকল ইঞ্জিন ও অ্যাম্বুলেন্স আগুনে পোড়া ভবনের নিচে অবস্থান করছে। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন তলার জানালায় বিছানার চাদর বেঁধে ঝুলিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অতিথিরা।
তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে হোটেলের একজন অতিথি বলেন, আগুন থেকে বাঁচার জন্য লোকজন জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ছাদে দুজন নারীকে দেখা যায়। আগুন কাছাকাছি আসায় তারা সেখান থেকে লাফিয়ে পড়েন। হোটেলের আরেকজন অতিথি একোল টিভিকে বলেন, তিনি ও তার পরিবারের লোকজন আগুনের তাপে জেগে ওঠেন।
তারা আগুনের সতর্কসংকেত শুনতে পাননি। পরে ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া হোটেলের করিডরে প্রবেশ করেন তারা। সেখান থেকে তারা নিচের তলার জানালা দিয়ে তুষারের ওপর লাফ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ারলিকায়া বলেন, কয়েকটি স্কি ঢালের গোড়ায় নির্মিত ওই হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের সময় ২৩৮ জন অতিথি ছিলেন। আগুন নিভিয়ে ফেলার পর সকালের দিকেও হোটেলটি থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া হোটেলটি শীতল করার প্রচেষ্টা চলছে। হোটেলের পেছনের অংশটি ঢালে হওয়ায় আগুন নেভানোর চেষ্টা কেবল সামনে ও পাশের দিক থেকে চালানো হচ্ছে।’
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে টেলিফোনে কল পাওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। -আলজাজিরা