প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ সূত্র : বাসস।
তিনি সাক্ষাৎকারে তাঁর সরকারের এই প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিচার হবে, কেবল তাঁর নয়। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার, তাঁর পরিবারের সদস্য, তাঁর সহযোগী বা দোসরদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে’। গতকাল স্কাই নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানান, তাঁরা ভারতের কাছে ‘আনুষ্ঠানিক চিঠি’ পাঠিয়েছেন, তবে এখনো ‘কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া’ মেলেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাসিনা বাংলাদেশে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকুক কিংবা ভারতে পালিয়ে থাকুক- তাঁকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। অধ্যাপক ইউনূস সম্প্রতি কুখ্যাত একটি গোপন বন্দিশিবির পরিদর্শন করেন, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। অর্থনীতিবিদ ও ‘গরিবের ব্যাংকার’ হিসেবে পরিচিত এই নোবেল বিজয়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, সেখানে তিনি যা দেখেছেন তাতে চরম মর্মাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা এতটাই ভয়ংকর যে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না’। অধ্যাপক ইউনূস নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে কি না, বা তাঁর আমলেই তা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংযত প্রত্যাশা রাখতে বলেছেন। বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কেউ শাস্তি পাবে, কেউ বিচার প্রক্রিয়ায় থাকবে, আবার কেউ হয়তো অধরাই থেকে যাবে’। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলা অধ্যাপক ইউনূস জানিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন, যাতে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি করা যায়। বাংলাদেশের কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যেখানে ‘হিংসা, মাদক এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম’ বেড়ে গেছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এই উত্তেজনা সহসা কমবে না’।