এক মাস সিয়ামসাধনার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এবার সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রমজান মাসে ছিল না দ্রব্যমূল্যের জন্য হাহাকার। ঈদের কেনাকাটায় ছিল স্বস্তি। ঘরমুখো লাখো মানুষের ঈদযাত্রাও ছিল নিরাপদ ও স্বস্তির। ঈদের দিনও কেটেছে মুক্ত-মুখর-আনন্দ-উৎসবে। সব মিলে এবার অন্যরকম এক স্বস্তিময় ঈদ উদ্যাপন করেছেন দেশবাসী।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশে এখন অবারিত স্বাধীনতা বিরাজ করছে। আর তার মধ্যেই এসেছে প্রথম ঈদ। ঈদের চাঁদ দেখার পরপরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল ফিতরকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল হয়েছে। অনেকে আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে। ঈদের দিনেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজন করেছে ঈদ আনন্দ মিছিলের।
রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুুদ্দিন এবার বঙ্গভবনের লনে অনেকের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেছেন। ঈদের নামাজ শেষে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নানা শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, আজকের দিন আমরা প্রতিদিন স্মরণ করি। আমরা দেশে শান্তি চাই, যাতে মানুষ নিজ মনে নিজের আগ্রহে চলতে পারে। কারও ভয়ে, ভীত হয়ে তাকে চলতে না হয়। আমরা সবাই সবার মঙ্গল কামনা করি। আমরা জাতির জন্য শান্তি চাই এবং সারা পৃথিবীর জন্য শান্তি চাই। এবারের বেশির ভাগ উপদেষ্টা ঢাকায় ঈদ করেছেন। এবার ঢাকায় আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে প্রথমবার ঈদের বড় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) রাজধানীজুড়ে খোলা মাঠে ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে। ঈদের দিন রাজধানীবাসীর মধ্যে ছিল উল্লাস। ছিল না কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নামাজ শেষে আগারগাঁওয়ে ঈদের র্যালি, বিনোদনে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ছিল বেশি। বিনোদন কেন্দ্রে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।