গুণী অভিনেতা, নির্মাতা ও নাট্যকার সালাহউদ্দিন লাভলু। ক্যামেরার কবি হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয় তাঁকে। অভিনয়ের বাইরে প্রায় ২৭ বছর ধরে নাটক পরিচালনা করছেন। তাঁর সঙ্গে সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
কেমন আছেন, ব্যস্ততা কেমন?
আছি এইতো। ভালোই আছি। আর ব্যস্ততাই তো জীবন। ব্যস্ততা আসলে কাজ নিয়েই।
একজন সালাহউদ্দিন লাভলুকে কী পরিচয়ে মানুষ মনে রেখেছে?
আমি সব সময় নিজেকে একজন নাট্যকর্মী বা নাটকের মানুষ মনে করি। নাটক আর চলচ্চিত্রের বাইরে আর কিছু বুঝি না। এভাবেই জীবনযাপন করি। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রথমত আমাকে অভিনেতা হিসেবেই চেনে, তারপর পরিচালক হিসেবে। অভিনয়টা না করলে চেহারা চিনত না; তখন নামে চিনত।
মিডিয়ার পালাবদলকে কীভাবে দেখছেন?
সময়ই তো পরিবর্তনশীল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রতিটি সেক্টরই ডেভেলপ ও পরিবর্তন হচ্ছে। সব পরিবর্তনই যে খুব ভালো সেটা বলা যাবে না। কিছু কিছু পরিবর্তন ভালো, কিছু খারাপ। আমাদের কালচারাল দিকটার কথা যদি বলি তাহলে বলব, এককালে আমাদের গোল্ডেন সময় ছিল। সেটা ’৮০-৯০ দশকের দিক। সে সময় সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশ ঘটেছিল এবং আমাদের যৌবনকাল ছিল। সেটা পার করে এসেছি। দুর্দান্ত সব নাটক, ফিল্ম, গল্প, উপন্যাস, কবিতা, সংগীত সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো কিন্তু কালজয়ী। তবে ইদানীং সময় পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু তো টেকনোলজিক্যাল পরিবর্তন তো হচ্ছেই। আগে নাটকের কাহিনি ছিল অনেক বেশি ফ্যামিলিনির্ভর। এখন তো সেই বিষয়টি অনুপস্থিত। সবার হাতে হাতে, মোবাইলে চলে আসছে সব। এখন যে ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে একা একা দেখা ছাড়া তো উপায় নেই। এগুলোর কাহিনি ও কনটেন্ট হয়ে গেছে ১৮ প্লাস। এটি কতটা ভালো বা খারাপ হয়েছে তা বলা মুশকিল। এটা সময়ই বলে দেবে।
ভাইরাল, ভিউ বিষয় নিয়ে আপনার অভিমত কী?
আমি মনে করি, শিল্পের একটা আলাদা চরিত্র থাকা দরকার। প্রথমত, এটা শিল্প, তারপর বাণিজ্য। ভাইরাল বিষয়টি এসে আমাদের সমাজের অনেক কিছুই কিন্তু খারাপ হয়েছে। এখন সবাই দেখে কোনটার ভিউ বেশি, কোনটা ভাইরাল হবে। ভাইরাল হতে হবে! আরে, ভালো কাজ দিয়ে ভাইরাল হও। কিন্তু ভালো কাজ বাদে উল্টাপাল্টা কাজ দিয়ে ভাইরাল হওয়া বা ব্যক্তিগত ইস্যু দিয়ে নিজেকে সবার সামনে আনা কি ঠিক? নেগেটিভ ইস্যুকে পুঁজি করে ভাইরাল হওয়ার টেনডেন্সি এখন। মজার বিষয় হচ্ছে- বাণিজ্যিকভাবে ভাইরাল হওয়াই মানুষের চাহিদা। আমরা তো একটা আইডোলজি নিয়ে বেড়ে উঠেছি। এখন সেই আইডোলজির অভাবটা ভীষণভাবে ফিল করছি।
‘রঙের মানুষ’-এর পর আরেকটা রেভ্যুলেশন সম্ভব হচ্ছে না কেন?
রঙের মানুষ আমরা যে সময় তৈরি করেছিলাম সে সময় এর পেছনে ছিলেন ড. সেলিম আল দীন। ওইটার আদলে এখনো কিছু গ্রামের নাটক করা হচ্ছে। তবে আরেকটি ‘রঙের মানুষ’ তো আর হচ্ছে না।